বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরের তিন দিনের ঢাকা সফরের প্রথম দিনেই ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এদিকে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান স্পষ্ট করেন- আওয়ামী লীগ নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনাই হয়নি। এছাড়া আরো কিছু বিষয় নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাধারণত যেভাবে যৌথ বিবৃতি বা আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং দেওয়া হয়, এবার তা হয়নি। পূর্বনির্ধারিত নৈশভোজ শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে সার্জিও গরের সম্মানে আয়োজন করা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়নি। এসব ঘটনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বৈঠকের পরপরই শুক্রবার সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বাংলাদেশের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি বিবেচনায় দেশটির ভ্রমণ সতর্কতা লেভেল-৩ থেকে লেভেল-২-এ নামিয়ে এনেছে।
এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। যদিও কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা বহাল থাকবে, তবু সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশকে এখন ভ্রমণের জন্য অধিকতর নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি এ সিদ্ধান্তকে ‘দারুণ খবর’ বলেও উল্লেখ করেন। এরপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ভ্রমণ সতর্কতার উন্নতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি করেছে এবং এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্বের ইতিবাচক ধারারও প্রতিফলন।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার এ সিদ্ধান্তকে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিজেদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে। একই দিন আরেকটি এক্স বার্তায় সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশের প্রথম সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদারে ‘অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি’ অর্জিত হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশীদারত্ব, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, অভিবাসন, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু স্থান পায়। কূটনৈতিক মহলে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ হয় পরদিন, যখন পূর্বঘোষণা ছাড়াই ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সার্জিও গর বৈঠক করেন। বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। এদিকে বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সার্জিও গরের সম্মানে একটি নৈশভোজ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুটি কর্মসূচিই বাতিল করা হয়। কেন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় সফরে নির্ধারিত কর্মসূচিতে পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়। কারণ প্রকাশ না করা হলে স্বাভাবিকভাবেই নানা ব্যাখ্যা ও জল্পনা তৈরি হয়। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের দাবি ও ব্যাখ্যাও ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও সেগুলোর পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য উপস্থাপিত হয়নি। এরই মধ্যে গত শুক্রবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সার্জিও গরের সঙ্গে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বৈঠকটি পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ ছিল না।
যদিও কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম ও কৌশলগত বিশ্লেষণমাধ্যম সার্জিও গরের ঢাকা সফর নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। এসব বিশ্লেষণে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চীনমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান একাধিক বিষয়ে স্পষ্ট করেন- আওয়ামী লীগ নিয়ে আলোচনা হয়নি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়নি, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে আলোচনা হয়নি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে আলোচনা হয়নি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও আলোচনায় আসেনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়াও কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তাঁর এ বক্তব্যের পর কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে যদি আলোচিত হয়নি বলে উল্লেখ করা বিষয়ই বাদ পড়ে থাকে, তাহলে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কী ছিল, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। যদিও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কূটনৈতিক বৈঠকে সব বিষয় প্রকাশ্যে আসে না এবং যৌথ বিবৃতি না দেওয়া বা কর্মসূচিতে পরিবর্তন হওয়া সব সময় অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় সংবেদনশীল আলোচনা বা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকে।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ভারতের কোনো সরকারই এসব বিশ্লেষণের পক্ষে বা বিপক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে ভারতীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সব বিবেচনায় এটা স্পষ্ট, আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে কোনো বিষয় সার্জিও গরের সফরের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে ছিল, এমন তথ্যভিত্তিক প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই। বিশ্লেষণগুলো মূলত চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সময় এবং আঞ্চলিক কৌশলগত বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করেই করা হয়েছে।
বিশ্লেষকের মতে, সম্প্রতি বাংলাদেশের চীনমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তাঁদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ঢাকা, ওয়াশিংটন, বেইজিং ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। ফলে উচ্চপর্যায়ের প্রতিটি সফর ও বৈঠক স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তাদের মতে, সার্জিও গরের সফরের প্রকৃত তাৎপর্য বোঝা যাবে আগামী কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে। আপাতত এ সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ঢাকার কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির দৈনিক এদিনকে বলেন, নতুন সরকারের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর ভাষায়, নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ একদিকে চীন, রাশিয়া, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেও নতুন ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশের জন্য যেমন নতুন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জও বাড়াচ্ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অবকাঠামো, জ্বালানি, বন্দর উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সম্ভাব্য বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে দুই দেশের যোগাযোগ বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর কিংবা ভারতসংক্রান্ত কোনো বিষয় আলোচনায় আসেনি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচিত না হলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় সেসব বিষয়ে নিজস্ব মূল্যায়ন করে থাকে।
সার্জিও গরের দায়িত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি একই সঙ্গে ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতও। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তাঁর সফরকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
দীনেশ ত্রিবেদী গত ২৫ জুন বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্জিও গর সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সে বিবেচনায় ঢাকায় তাঁদের বৈঠককে কূটনৈতিকভাবে স্বাভাবিক বলেও মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। সফরের সময়, প্রেক্ষাপট এবং সীমিত তথ্য প্রকাশের কারণে বৈঠকটি বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে সার্জিও গরের এবারের সফরের আরেকটি তাৎপর্য হলো, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ওয়াশিংটনের তৃতীয় উচ্চপর্যায়ের সফর। এর আগে মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ ঢাকা সফর করেন। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো সফর নয়; বরং বাংলাদেশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার অংশ।
বাণিজ্য চুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতা কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত 'অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)' বাস্তবায়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত এক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও গম আমদানি বৃদ্ধি, বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের সম্ভাবনা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং সামুদ্রিক যোগাযোগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব তথ্যের বিষয়ে বাংলাদেশ বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ এখন বঙ্গোপসাগর, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, রোহিঙ্গা সংকট, আঞ্চলিক সংযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। ফলে সার্জিও গরের সফরকে কেবল একটি নিয়মিত কূটনৈতিক সফর হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক কৌশলগত প্রেক্ষাপটেও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









