পৃথিবীর সাথে সবচেয়ে বেশি মিল থাকা সত্ত্বেও মঙ্গল গ্রহকে দীর্ঘদিন ধরে প্রাণের প্রতিকূল ও বসবাসের অযোগ্য হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে নাসা-র 'পারসিভারেন্স' রোভারের সর্বশেষ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নতুন এক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, একসময় লাল গ্রহটিতে প্রাণের বেঁচে থাকার উপযোগী পরিবেশ ছিল।
এটি বর্তমান জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্যতম বড় একটি অমিমাংসিত প্রশ্ন। ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (INAF) আয়োজিত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মহাকাশ গবেষণা সম্মেলন 'COSPAR'-এ সম্প্রতি ফ্লোরেন্সে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
INAF-এর আরসেট্রি অবজারভেটরির গবেষক এবং ফ্লোরেন্সের অ্যাস্ট্রোবায়োলজির অধ্যাপক টেরেসো ফোর্নারো (যিনি পারসিভারেন্স মিশনের সাথে যুক্ত রয়েছেন) এএনএসএ (ANSA)-কে বলেন, ‘নাসা-র পারসিভারেন্স রোভারের মাধ্যমে এমন কিছু খনিজের সন্ধান মিলেছে, যা পৃথিবীতে অণুজীবের দ্বারা তৈরি হয়। এর সাথে জটিল জৈব পদার্থের উপস্থিতি—এই সব প্রমাণ একসাথে যুক্ত হয়ে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অতীতে মঙ্গল গ্রহ বসবাসযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে।’
ফোর্নারো আরও বলেন, মঙ্গল গ্রহে যদি কোনো প্রাণের অস্তিত্ব থেকে থাকে, তবে তা সম্ভবত ছিল মাটির নিচে থাকা অণুজীব। এগুলো পৃষ্ঠতলের ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে সুরক্ষিত থাকত এবং পাথর থেকেই শক্তি সংগ্রহ করত। তিনি আরও বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত আমরা কেবল পরোক্ষ প্রমাণ পেয়েছি। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যে জৈব পদার্থ খুঁজে পেয়েছি সেটির গঠনে বেশ পরিবর্তন এসেছে, তাই এর মূল উৎস জানা কঠিন। পৃথিবীতে যখন এই নমুনাগুলো এনে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে, তখনই কেবল আমরা একটি চূড়ান্ত উত্তর পাব।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









