দীঘদিন রাজপথে বিরোধীরূপে থাকা দল বিএনপি যখন ছয় মাস আগে সরকার গঠন করে ক্ষমতায় আসীন হলো তখনই মূলত আলোচনায় আসে নামটি। কারণ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতির স্থলে তিনিই যে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হবেন তা অনেক আগেই অনুমিত ছিল। তবু রাষ্ট্রীয় আচার ও নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুসরণ করতে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে।
অবশেষে গতকাল বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্তের পর রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন জমাদানের শেষ দিনে তার মনোনয়ন নিশ্চিত করে "হতে পারে" কিংবা "নতুন নারী রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে" জাতীয় খবরের অবসান ঘটানো হলো। ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই এখন বিএনপির মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের ২৩তম মহামান্যর চেয়ারে আসীন হচ্ছেন এটি মোটামুটি নিশ্চিত। কারণ, ইতিমধ্যেই তিনি দলটির মহাসচিব ও মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয় চূড়ান্ত করতে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’ দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুল মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানান রিজভী। পাশাপাশি তিনি বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন।
এর আগে গত ১ আগস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য দৈনিক এদিনকে বলেন, প্রার্থী ঠিক করার দায়িত্বভার পেয়ে দলের চেয়ারম্যান এ কয়েকদিন ফোনে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মতামত নেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে ঠিক করা প্রার্থীর নাম জানাতে বৃহস্পতিবার বৈঠক ডাকা হয়।
এতে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ নেতারাও অংশ নেন। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র নির্বাচন ভবনে জমা দেওয়া হয়। তফসিল অনুযায়ী, এদিনই মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এর পর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
এবার বিরোধী জামায়াত জোট প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হতে যাচ্ছে। এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে বিরোধী ১১ দলীয় ঐক্য।
আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলই তাতে রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতার।
সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধীদের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারীসহ ৯০। ফলে ভোটে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন, এটা অনেকটাই পরিষ্কার।
এদিকে রাজনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন বিএনপির অনেকগুলো ভালো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের একটি। কারণ তিনি দল ও দেশের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা বিলিয়ে দিয়েছেন। দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য প্রশ্নাতীত। বক্তৃতা-বিবৃতির শব্দচয়নে খুবই সতর্ক একজন সাদা মনের মানুষ। আর সবমিলিয়ে একজন পরিশীলিত, মার্জিত, নম্র আর বিনয়ী রাজনীতিকের নাম আগামীর মহামান্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর আগে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আগলে রাখা বিএনপির মহাসচিবের পদে ছিলেন নির্লোভ। বক্তৃতার ধরনে তাঁর শরীরী ভাষা বলে দেয় তিনি কী বলতে চাইছেন। দুর্নীতি তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। দল ও দেশের প্রতি এমন নির্লোভ ত্যাগের দৃষ্টান্ত সমসাময়িক রাজনীতিতে বিরল।
বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময়ে দলকে সংগঠিত রাখায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে খন্দকার দেলোয়ারের মৃত্যুর পর থেকে তিনি দলের মহাসচিব হিসেবে রাজপথের আন্দোলন, মামলা-মোকদ্দমা ও সাংগঠনিক চাপ সামলেছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবনে দলের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মির্জা ফখরুল ছিলেন অন্যতম প্রধান মুখ। দলের তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি সমন্বয়েও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বড় জয়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। এখন তাকে রাষ্ট্রপতি পদে নেওয়ার আলোচনা সামনে আসায় দলের ভেতরে নতুন নেতৃত্বের সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
১৯৭২ সালে বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। অন্য দশজন রাজনীতিকের মতো তাঁর নামের আগে কখনো অধ্যাপক বা অধ্যক্ষ উপাধী লিখতে দেখা যায়নি। এর আগে তিনি সরকারি দায়িত্বের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরে উপ-পরিচালক এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনে কাজ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৮২ সালে এস এ বারী পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্র এবং তরুণ বয়সে একাধারে সংস্কৃতি কর্মী, থিয়েটার অভিনেতা এবং আবৃত্তিকার ছিলেন। শিক্ষকতা পেশায় থাকাবস্থায়ও তিনি নাট্যাঙ্গনের সাথে জড়িত ছিলেন। রাজনীতিতে নিজকে শতভাগ বিলিয়ে দিতে গিয়েও কাব্য চর্চা বাদ দেননি এই সৃজনশীল মানুষটি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ছাত্র ইউনিয়নের হাত ধরে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। পরবর্তীতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পর ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন।
সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া একজন যোগ্য ব্যক্তির কাছে দলের দ্বিতীয় শীর্ষ পদটি তুলে দেন। তিনি ২০১৬ সালে দলের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান (বর্তমানে মেয়র পদমর্যাদা) নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চরম ত্যাগ ও লড়াই করেছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির চরম দুঃসময়ে দলের হাল ধরে রেখেছিলেন তিনি। বেগম খালেদা জিয়ার কারাবরণ এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রবাসে থাকার কঠিনতম সময়ে তিনি সুশৃঙ্খলভাবে দল পরিচালনা করেছেন।
শেখ হাসিনার সরকারের দমন-পীড়নের মুখে প্রায় ৬ বার কারাবরণ করেছেন, সহ্য করেছেন শারীরিক-মানসিক নির্যাতন। তাঁর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকার এক শর কাছাকাছি মামলা দিয়েছে। বেশির ভাগ মামলাই রাজনৈতিক সহিংসতার। কোনো ভয় বা প্রলোভন তাঁকে আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে তিনি ছিলেন এক বিশ্বস্ত সেনাপতি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মির্জা ফখরুল এক নতুন বাংলাদেশের কাণ্ডারি। যাঁরা বলেন রাজনীতিতে ভদ্রতা ও মেধার স্থান নেই, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁদের জন্য এক উপযুক্ত জবাব। সংসদ সদস্যদের বিশাল জনসমর্থন নিয়ে তিনি হতে যাচ্ছেন দেশের অভিভাবক।
মির্জা ফখরুল একসময় বিএনপির অঙ্গ সংগঠন- কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। ২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হন। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া -৬ আসন থেকে জিতলেও এমপি হিসেবে শপথ নেননি। পরবর্তীতে এই আসনে অলি আহাদ কন্যা রুমিন ফরহানাকে উপ-নির্বাচনে জিতিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব। এর আগে তিনি ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় কাউন্সিলে আলমগীরকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত করা হয়। ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আলমগীর তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে তিনি নবম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন।
মির্জা ফখরুল ১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র থাকাকালীন তার রাজনৈতিক অভিযান শুরু করেন। সেই সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে (ইপিএসইউ) যোগদান করেন। তিনি সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ইউনিটের মহাসচিব নির্বাচিত হন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে উঠে আসেন এবং ১৯৬৯ সালে রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের তুঙ্গে ওঠার সময়, সংগঠনের মর্যাদাপূর্ণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন। রাজনৈতিক কারণে তাকে গ্রেফতার এবং কারাগারে পাঠানো হয়।
জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ
মির্জা ফখরুল ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন এবং সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে মির্জা ফখরুল বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুলকে আলমগীরকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।
ব্যক্তিগত জীবন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যক্তিগত জীবনে রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে ঢাকায় একটি বীমা কোম্পানিতে কর্মরত। এই দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ এবং মির্জা সাফারুহ। শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন এবং এই প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকার একটি একটি স্বনামধন্য স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।
মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সভাপতি পদে আছেন। তিনিও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র ছিলেন।
তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন, একজন বিশিষ্ট আইনজীবী এবং প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ। ঠাকুরগাঁও নির্বাচনি এলাকা থেকে বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কৃষিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন বিএনপির একজন রাজনীতিবিদ, যিনি ভূমিমন্ত্রী (১৯৭৮-৭৯), আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী (১৯৯১-৯৬) এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার (১৯৭৯-৮২) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মির্জা হাফিজ ১৯৭৯ সালে ঢাকার একটি নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মির্জা ফখরুলের আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা ১৯৭১ সালের এপ্রিলে গঠিত মুজিবনগর প্রবাস সরকারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ সুবিধা তদারকির জন্য নবগঠিত যুব শিবির অধিদফতরের প্রধান হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দল ও সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এবং তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য একজন নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানোর মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোতেও ভারসাম্য তৈরি করতে চাইতে পারে। তবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয় এবং আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









