মানুষের সভ্যতা যত এগিয়েছে, প্রকৃতির সঙ্গে তার দূরত্বও যেন তত বেড়েছে। এক সময় যে মানুষ গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিত, নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে বাতাসের গান শুনত, ফল-ফুল, কাঠ, ওষুধ ও অক্সিজেনের জন্য প্রকৃতির ওপর নির্ভর করত, আজ সেই মানুষই উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কাটছে, বন উজাড় করছে, জলাভূমি ভরাট করছে এবং কংক্রিটের দেয়ালে ঢেকে দিচ্ছে সবুজ পৃথিবী।
অথচ প্রকৃতি ছাড়া মানুষের উন্নয়ন অসম্পূর্ণ, আর বৃক্ষ ছাড়া প্রকৃতি যেন প্রাণহীন দেহ। তাই বৃক্ষরোপণকে কেবল পরিবেশ রক্ষার একটি কর্মসূচি হিসেবে দেখলে চলবে না; এটিকে দেখতে হবে মানুষের অস্তিত্ব, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে। আজ পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে, অনিয়মিত হচ্ছে বৃষ্টিপাত, দীর্ঘ হচ্ছে খরা, বাড়ছে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি। এমন সময়ে বৃক্ষরোপণ আর বিলাসিতা নয়, এটি বেঁচে থাকার প্রয়োজন।
বৃক্ষ আমাদের নীরব সহচর। তারা মানুষের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান দাবি না করেই ছায়া দেয়, বাতাস পরিশুদ্ধ করে, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, মাটিকে আঁকড়ে ধরে, পানি সংরক্ষণে সহায়তা করে এবং অসংখ্য প্রাণীর আশ্রয়স্থল তৈরি করে। পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বনভূমি; জাতিসংঘের ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজশনের ২০২০ সালের বৈশ্বিক বনসম্পদ মূল্যায়ন অনুযায়ী পৃথিবীতে বনভূমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪.০৬ বিলিয়ন হেক্টর। কিন্তু ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্ব প্রায় ১৭৮ মিলিয়ন হেক্টর বন হারিয়েছে, যদিও বিভিন্ন দেশে বনায়ন ও প্রাকৃতিক পুনরুদ্ধারের কারণে বন হারানোর বার্ষিক গতি কিছুটা কমেছে। এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার হিসাব নয়; এর প্রতিটি হেক্টরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য গাছ, পাখি, প্রাণী, কীটপতঙ্গ, অণুজীব এবং মানুষের জীবন-জীবিকা। বন কমলে শুধু গাছ কমে না, কমে যায় প্রকৃতির ভারসাম্যও।
বাংলাদেশের জন্য বৃক্ষরোপণের প্রয়োজন আরো বেশি। ভৌগোলিকভাবে ছোট অথচ বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে কৃষিজমি, বসতি, শিল্প, সড়ক ও অবকাঠামোর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।
বাংলাদেশের বন ও বৃক্ষসম্পদ নিয়ে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত একটি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের মোট ভৌগোলিক এলাকার আনুমানিক ১৬.৮৮ শতাংশ বৃক্ষ আচ্ছাদিত ছিল; একই সঙ্গে সেখানে প্রাকৃতিক শালবন ও পাহাড়ি বনভূমির বড় অংশ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে শুধু নতুন গাছ লাগানো নয়, বিদ্যমান বন রক্ষা, প্রাকৃতিক বন পুনরুদ্ধার এবং শহর-গ্রামজুড়ে পরিকল্পিত বৃক্ষ আচ্ছাদন বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে নদীর তীর, সড়কের পাশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, সরকারি পতিতজমি, খালপাড়, উপকূলীয় এলাকা ও বসতবাড়ির আশপাশে উপযুক্ত দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানো যেতে পারে। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি জলবায়ু পরিবর্তন। শিল্পায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো এবং বন উজাড়ের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়েছে।
বৃক্ষ এই সংকট মোকাবিলায় প্রকৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। গাছ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে জৈব পদার্থে কার্বন ধরে রাখে। ইউনাইটেড ন্যাশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি)-এর তথ্য অনুযায়ী বন সংরক্ষণ, টেকসই ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার জলবায়ু প্রশমনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে; বনভূমি শিল্প ও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৃষ্ট নির্গমনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শোষণ করতে সক্ষম। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি বৃক্ষ ও বন সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু কার্বন শোষণ নয়, গাছ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শহরের কংক্রিট, পিচঢালা রাস্তা ও ভবনের কারণে নগরাঞ্চলে তাপ জমে থাকে। পর্যাপ্ত গাছপালা থাকলে ছায়া সৃষ্টি হয়, বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পরিবেশ তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে এবং মানুষের হাঁটা ও বসবাসের পরিবেশ আরামদায়ক হয়। আজ বাংলাদেশের শহরগুলোতে গ্রীষ্মের তীব্রতা যখন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে, তখন নগর বৃক্ষায়নকে সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্যের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা দরকার। একটি শহরে যত বেশি গাছ, তত বেশি ছায়া, তত বেশি সবুজ উন্মুক্ত স্থান এবং তত বেশি প্রাকৃতিকভাবে তাপ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ। বৃক্ষ বৃষ্টির পানির সঙ্গেও গভীর সম্পর্ক তৈরি করে। গাছের শিকড় মাটিকে দৃঢ় করে, মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত পানির প্রবাহ কমাতে ভূমিকা রাখে। বন ও সুস্থ বাস্তুতন্ত্র বন্যা, ভূমিক্ষয় ও খরার মতো দুর্যোগের প্রভাব কমাতে পারে। ইউএনইপি বলছে, পুনর্বনায়ন মরুকরণ ঠেকাতে, ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণে এবং উপকূলীয় ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। বাংলাদেশের মতো বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ দেশে তাই বৃক্ষরোপণকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও যুক্ত করা প্রয়োজন।
উপকূলীয় বাংলাদেশের জন্য সুন্দরবন এ ক্ষেত্রে একটি জীবন্ত উদাহরণ। ম্যানগ্রোভ বন শুধু জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল নয়, এটি উপকূলকে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ঢেউয়ের শক্তি থেকে প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। সুন্দরবনের গাছপালা, নদী-খাল, প্রাণী ও জলজ পরিবেশ মিলেই একটি বিশাল জীবন্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। ফলে উপকূলীয় এলাকায় পরিকল্পিত ম্যানগ্রোভ বনায়ন এবং বিদ্যমান ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণ বাংলাদেশের জলবায়ু অভিযোজন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত।
বৃক্ষরোপণের সঙ্গে কৃষিরও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। গাছ মাটির ক্ষয় কমায়, জৈব পদার্থ যোগ করে এবং বিভিন্ন জীবের আবাসস্থল তৈরি করে। কৃষিজমির পাশে পরিকল্পিতভাবে ফলদ, কাঠজাতীয় ও স্থানীয় উপযোগী গাছ লাগালে কৃষি ও বৃক্ষ- দুটিই একসঙ্গে টিকে থাকতে পারে। এ ধরনের কৃষিবনায়ন কৃষকের আয় বাড়াতে পারে এবং একই সঙ্গে মাটির স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে পারে। ইউএনইপি-এর মতে, সুস্থ মাটি জলধারণ, পুষ্টি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য এবং কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বৃক্ষরোপণকে কৃষির প্রতিদ্বন্দ্বী না বানিয়ে কৃষির সহযোগী হিসেবে পরিকল্পনা করতে হবে।
বৃক্ষ জীববৈচিত্র্যেরও অন্যতম প্রধান আশ্রয়। একটি বড় গাছের ডালে পাখির বাসা হতে পারে, কাণ্ডে বাস করতে পারে নানা কীটপতঙ্গ, গাছের নিচের মাটিতে জন্ম নিতে পারে অসংখ্য অণুজীব, আর ফল-ফুল হতে পারে বহু প্রাণীর খাদ্য। ইউএনইপি-এর তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীর স্থলজ জীববৈচিত্র্যের বিপুল অংশ বনভূমির ওপর নির্ভরশীল। ফলে একটি গাছ কাটা মানে শুধু একটি কাঠের উৎস হারানো নয়; অনেক সময় এর সঙ্গে একটি ক্ষুদ্র বাস্তুতন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ করলে স্থানীয় পাখি, প্রজাপতি, মৌমাছি ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য খাদ্য ও আশ্রয়ের সুযোগ বাড়ে।
বৃক্ষরোপণের অর্থনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। ফলদ গাছ কৃষকের আয় বাড়াতে পারে, কাঠ ও বাঁশ নির্মাণ ও শিল্পে ব্যবহৃত হয়, বিভিন্ন গাছের পাতা, ফল, বীজ ও বাকল ওষুধ ও অন্যান্য পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বনভিত্তিক অর্থনীতি বিশ্বের কোটি মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। ২০২৫ সালের ইউএনইপি-এর একটি মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ উষ্ণমণ্ডলীয় বন সংরক্ষণ জল, মাটি, পরাগায়ন, খাদ্যনিরাপত্তা ও জীবিকার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা দেয় এবং এসব বনের ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য তা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশের জন্য ব্যয় নয়; সঠিক পরিকল্পনায় এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ।
তবে বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে আমাদের একটি বড় দুর্বলতা হলো উৎসবকেন্দ্রিকতা। বর্ষা এলেই কোথাও কোথাও হাজার হাজার চারা রোপণ করা হয়, ছবি তোলা হয়, প্রচার হয়; কিন্তু কয়েক মাস পর দেখা যায় অধিকাংশ চারাই বেঁচে নেই। একটি চারা মাটিতে পুঁতে দিলেই বৃক্ষরোপণের দায়িত্ব শেষ হয় না। বরং সেটি বেঁচে থাকার জন্য পানি, পরিচর্যা, সুরক্ষা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। তাই আমাদের স্লোগান হওয়া উচিত- গাছ লাগাব, গাছ বাঁচাব। একটি সুস্থ, পরিণত গাছ অনেক সময় শত শত অযত্নে লাগানো চারার চেয়েও বেশি পরিবেশগত সুবিধা দিতে পারে। বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাতেও বিজ্ঞান ও স্থানীয় বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সব জায়গায় একই প্রজাতির গাছ লাগানো সমাধান নয়। স্থানীয় মাটি, পানি, জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের প্রয়োজন বিবেচনা করে গাছ নির্বাচন করতে হবে। নদীর তীরে এক ধরনের গাছ উপযোগী হতে পারে, উপকূলে অন্য ধরনের, শহরে অন্য ধরনের এবং পাহাড়ে অন্য ধরনের। দেশীয় প্রজাতিকে অগ্রাধিকার দিলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে গাছের সম্পর্কও শক্তিশালী হয়। পাশাপাশি বনভূমির জায়গায় বাণিজ্যিক একক প্রজাতির বাগান তৈরি করে সেটিকে প্রাকৃতিক বন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়; প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের গুরুত্ব আলাদা।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিবেশ পুনরুদ্ধার এখন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। জাতিসংঘের নেতৃত্বে ২০২১-২০৩০ সময়কালকে প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারের দশক হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। ইউএনইপি জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫০ মিলিয়ন হেক্টর অবক্ষয়িত স্থল ও জলজ বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা গেলে বিপুল অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুফল পাওয়া সম্ভব; এই পুনরুদ্ধার থেকে প্রায় ৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাস্তুতান্ত্রিক সেবা এবং বায়ুমণ্ডল থেকে ১৩ থেকে ২৬ গিগাটন গ্রিনহাউস গ্যাস অপসারণের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্য প্রমাণ করে, বৃক্ষরোপণ ও প্রকৃতি পুনরুদ্ধার কোনো একক দেশের বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণকে কার্যকর করতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে শুধু বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট গাছের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। শহরের প্রতিটি নতুন সড়ক বা অবকাঠামো প্রকল্পে বৃক্ষ সংরক্ষণ ও নতুন বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা থাকা উচিত। নির্বিচারে পুরনো গাছ কাটার পরিবর্তে প্রয়োজনে গাছ রক্ষার বিকল্প নকশা খুঁজতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবছর কতটি গাছ লাগানো হয়েছে তার পাশাপাশি কতটি গাছ টিকে আছে- সেই হিসাবও প্রকাশ করতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, বৃক্ষরোপণকে আমাদের সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের অংশ করতে হবে। একটি শিশুর জন্মদিনে যেমন কেক কাটা হয়, তেমনি একটি গাছ লাগানোও হতে পারে আনন্দের স্মৃতি। একটি বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে গাছ লাগানো যেতে পারে। বিয়ের অনুষ্ঠান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কিংবা কোনো বিশেষ অর্জন স্মরণীয় করে রাখতে গাছ লাগানোর সংস্কৃতি তৈরি করা যেতে পারে। এতে বৃক্ষরোপণ আনুষ্ঠানিকতা থেকে বেরিয়ে মানুষের আবেগ ও জীবনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
শেষ পর্যন্ত বলতে হয়, পৃথিবী আমাদের কাছে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছ থেকে ধার নেওয়া একটি পৃথিবী। আমরা যদি আজ নির্বিচারে গাছ কাটি, আগামী প্রজন্মকে রেখে যাব আরো উষ্ণ, আরো দূষিত, আরো ঝুঁকিপূর্ণ একটি পৃথিবী। আর যদি আজ গাছ লাগাই, বন রক্ষা করি, নদীর তীর সবুজ করি, উপকূলকে ম্যানগ্রোভে সুরক্ষিত করি এবং শহরকে বৃক্ষসমৃদ্ধ করি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দিয়ে যেতে পারব ছায়াময়, বাসযোগ্য ও প্রাণবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি পৃথিবী। ইউএনইপি-এর ভাষায়, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অর্থ শুধু প্রকৃতিকে ফিরিয়ে দেওয়া নয়; এর সঙ্গে মানুষের খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও নিরাপত্তাও জড়িয়ে আছে। তাই বৃক্ষরোপণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন- শুধু আজকের গরম কমানোর জন্য নয়, আগামী দিনের পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। একটি গাছ হয়তো একদিনে পৃথিবী বদলায় না, কিন্তু কোটি মানুষের হাতে কোটি গাছ যখন বেড়ে ওঠে, তখন তারাই একদিন বদলে দিতে পারে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ।
লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









