মন্ত্রিসভার আকার বেড়েছে। নতুন করে চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তাদের শপথ পড়ান নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থাৎ সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের এমপি আবদুল মঈন খান, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, বাংলাদেশ জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ।
আর বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ানো হয়। নতুন রাষ্ট্রপতিই তাদের শপথ পড়ান।
নতুন ছয় সদস্য যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩ জনে। এর মধ্যে ২৮ মন্ত্রী ও ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী। নতুন দায়িত্ব পাওয়া ছয় সদস্যের মধ্যে কে কোন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে শিগগির মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। একই সঙ্গে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হতে পারে।
সরকারের একটি সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের মধ্যে ড. আবদুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী, সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী, রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী, মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এবং হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া গত ছয় মাস সরকারের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জহিরউদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। শুরুতে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার আকার ছিল ৫০ সদস্যের। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এরপর ১২ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। একই দিন হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। হাফিজ উদ্দিনের পদত্যাগের দিনই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান আহমেদ আযম খান।
অন্যদিকে, ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। গত ১ জুন পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এতে এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদ শূন্য হয়। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ উপদেষ্টা রয়েছেন। তাদের পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়সহ তিন সচিবের দপ্তর বদল: এদিকে সরকারের তিন সচিব পদে রদবদল করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ১১ দিন আগে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগে সচিব হিসেবে বদলি করা রফিকুল আই মোহাম্মদকে আবারও বদলি করা হয়েছে। চুক্তিভিত্তিতে নিয়োজিত এই কর্মকর্তাকে এখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব পদে বদলি করা হয়েছে।
এ ছাড়া পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাৎ শওকত রশীদ চৌধুরীকে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) করা হয়েছে। আর ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরীকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।
এর আগে ১০ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব পদে পরিবর্তন করেছিল সরকার। চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োজিত কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল আই মোহাম্মদকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগে সচিব (চুক্তিভিত্তিক) করা হয়েছিল। আর কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে একই মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। অন্যদিকে সেদিন পৃথক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব খান মো. নূরুল আমীনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









