বরিশাল বিভাগে পানির মান পরীক্ষার কার্যক্রম প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ায় নিয়মিতভাবে পানির নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এরই মধ্যে বর্ষা মৌসুমে বিভাগজুড়ে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০১০ সালে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গবেষণাগারটি স্থাপন করা হয়। শুরু থেকেই সেখানে পানি, বায়ু ও শব্দদূষণের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো। তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর প্রায় তিন বছর ধরে পানির মান পরীক্ষার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের শেষ দিকে নথুল্লাবাদ এলাকায় নতুন ভবনে কার্যালয় স্থানান্তর করা হলেও গবেষণাগারের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি এখনো সরবরাহ করা হয়নি। ফলে নতুন ভবনে কার্যক্রম চললেও পানির মান নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো নিয়মিত করা যাচ্ছে না।
বরিশাল নগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় এর আগে খাবার পানির নমুনায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার নজির রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে পানির মান পরীক্ষা বন্ধ থাকায় নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানিবাহিত রোগের বিস্তার বাড়ায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে বরিশাল বিভাগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে। ডায়রিয়ার পাশাপাশি চর্মরোগসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগের বিস্তারও দেখা যাচ্ছে বিভাগটির বিভিন্ন এলাকায়।
এ অবস্থায় দ্রুত পানির মান পরীক্ষার ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কোন এলাকার পানি ব্যবহারের উপযোগী এবং কোথায় দূষণের ঝুঁকি রয়েছে, তা নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে দূষিত পানির উৎস চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, গবেষণাগারের জন্য প্রয়োজনীয় ৫১টি যন্ত্রপাতির তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের পরিচালক মো. রেফায়াতুল হায়দার বলেন, জুলাই মাসে বরিশাল বিভাগে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পানিবাহিত রোগের প্রকোপের সময়ে পানির মান পরীক্ষার কার্যক্রম বন্ধ থাকা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তাই প্রকল্প অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে বরিশালের গবেষণাগারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা জরুরি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









