প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে খবর আসার পর তার প্রেস সচিব বলেছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। গতকাল শুক্রবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, তারেক রহমান ২৩-২৫ অগাস্ট দিল্লি সফর করতে পারেন। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দিল্লি সফর নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে। রয়টার্স লিখেছে, ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে চলমান প্রচেষ্টার মধ্যেই এ সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি সামনে এল।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। জুলাই আন্দোলন দমাতে নিপীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গেল নভেম্বরে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে দিল্লিকে বারবার অনুরোধ করে আসছে ঢাকা। ভারত বলছে, তারা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি পরীক্ষা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী রয়টার্সকে বলেছেন, ‘দিল্লি সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’ তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ও অন্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
এদিকে গতকাল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সফর নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলার মতো কোনো মন্তব্য নেই। এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেটি আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ঘিরে টানাপড়েন এবং তারেক রহমানের সফর ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে শুক্রবার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের এমন কাণ্ড নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছয় মাস আগে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমানের সরকার শুরু থেকেই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে।তার সম্ভাব্য নয়া দিল্লি সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলার মধ্যে গত সপ্তাহে ঢাকা ইঙ্গিত দিয়েছিল, সফরের জন্য আরও অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার।এছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের আয়োজনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। গেল ১৪ অগাস্ট ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছিল, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২২-২৩ অগাস্ট; অর্থাৎ, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ পর।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করে।
ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো তখন বলছিল, প্রতিবেশী দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের জন্য নীরবে হলেও নিশ্চিতভাবেই প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। গেল ১০ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার (যিনি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা পান) দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকটি এই সংক্ষিপ্ত সফরের বিষয়ে মত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে তখন ধারণা করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে আগামী ২৭ বা ২৮ অগাস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফরে যোগ দেবেন। এর মধ্যে গত ৫ অগাস্ট জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়া দিল্লিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন। তিনি সেখানে বলেছেন, ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন। সেদিন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর পর ঢাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরে অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং শেখ হাসিনা ও শরীফ ওসমান হাদি হত্যার দুই আসামির প্রত্যর্পণের শর্ত দেয়।
থমকে আছে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা: দ্য প্রিন্ট
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে আটকে আছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ। তাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়া দিল্লি সফরের সম্ভাবনাও নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে খবর দিয়েছে দ্য প্রিন্ট।ভারতীয় এ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের বিভাজন ঢাকার ভারত-নীতিকে স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না। আর এ ক্ষেত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর এবং শরীফ ওসমান হাদীর সন্দেহভাজন খুনিদের হস্তান্তর করার দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য প্রিন্ট লিখেছে, ঢাকা ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক চায়। তবে নয়া দিল্লিকে অবশ্যই শেখ হাসিনাকে এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত রাখতে হবে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। দ্য প্রিন্টকে ওই সূত্রটি বলেছে, ‘আগে তাকে (হাসিনা) চুপ করান, তারপর আমরা [বাংলাদেশ] কথা বলতে পারি।’ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শেখ হাসিনার ওই সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সেখানে বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গেও ভারত একমত নয়।
দ্য প্রিন্ট লিখেছে, ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, তা এখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছেন,শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া ‘উচিত নয়’। প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের রাজনৈতিক চাপের মধ্যে তারেক রহমানকে একদিকে ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে দিল্লির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর চাপও সামলাতে হচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ কেমন সম্পর্ক বজায় রাখবে, তা নিয়েও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের কথা তুলে ধরেছে দ্য প্রিন্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ শীর্ষ ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর প্রকাশ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য প্রিন্ট লিখেছে, বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজন থাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আমলারা ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে অভিবাসন, পানিবণ্টন এবং গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরুর জন্য ঢাকা গত জুনে দিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়ে রেখেছে, যদিও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকের বিষয়টি অনিশ্চয়তায় ঝুলছে।
সুর পাল্টেছে নয়াদিল্লি
এই টানাপড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ‘পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে’ পরিচালনার কথা বলতে শুরু করেছে ভারত, যা দ্য প্রিন্টের ভাষায়, দিল্লির অবস্থানের ‘উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন’। এই শব্দের ব্যবহার থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, নয়াদিল্লি মনে করে, সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বল এখন ঢাকার কোর্টেই। একই সময়ে ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে তারেক রহমানের ভারত সফরের ওপর জোর দিয়ে যাচ্ছেন। ১০ আগস্ট তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ত্রিবেদী। এর আগে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
পরে ত্রিবেদী বলেন, দুই নেতা একসঙ্গে বসলে অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে। তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরদিন নয়াদিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঢাকার অবস্থান সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন ত্রিবেদী। দ্য প্রিন্ট লিখেছে, দুই দেশের নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক পর্যায়েও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে গত কয়েক মাসে নানাভাবে যোগাযোগ হয়েছে। তবে এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য প্রিন্ট লিখেছে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে সর্বশেষ বিরোধ এবং তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ওই উদ্যোগকে ‘ক্ষতিগ্রস্ত করেছে’।
জরুরি প্রশ্ন গঙ্গা চুক্তি
রাজনৈতিক এই অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার কোনো পথ তৈরি না হলে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও চাপের মুখে ফেলতে পারে। ঢাকার একটি সূত্র দ্য প্রিন্টকে এমনও বলেছেন, তারেক রহমান দিল্লি না গেলে অচলাবস্থা কাটাতে নরেন্দ্র মোদী নিজেই বাংলাদেশ সফর করতে পারেন। যদিও ঢাকা থেকে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এখনও জানানো হয়নি।ভারত মনে করে, দুই দেশের সম্পর্ক সচল রাখতে দিল্লি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে সরবরাহ সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানাতে দিল্লি দ্বিধা করেনি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুবাশ্বার হাসান দ্য প্রিন্টকে বলেছেন, ভারতের প্রতি ঢাকার কড়া ভাষা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে এবং তাকে এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরতে পারে যিনি ‘ভারতের সামনে মাথা নত করেন না’। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এটা কোনো উদ্ভাবনী নীতি নয়, বরং এটা প্রতিক্রিয়াশীল। এর মানে হল, এই নীতির নিয়ন্ত্রণ ঢাকার হাতে নেই, বরং বেশিরভাগটাই ভারতের হাতে। এ ধরনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন চলতে থাকলে এর মূল্য দিতে হতে পারে।’
যা বলছেন রণধীর জয়সওয়াল
এদিকে নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশ সম্পর্কিত কয়েকটি সাম্প্রতিক বিষয়ে ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক জোটে বাংলাদেশ যোগ দিতে পারে—এমন গুঞ্জন নিয়ে ভারতের অবস্থান কী। জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।’
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে যে প্রশ্নটি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমার আপাতত কিছুই বলার নেই। আমার কাছে কোনো আপডেট থাকলে তা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব।’ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে রণধীর জয়সওয়াল স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নদী-সম্পর্কিত সব বিষয় যৌথ নদী কমিশনের আওতায় আলোচনা হয়। পাশাপাশি গঙ্গা পানি চুক্তির অধীনে যৌথ কমিটির বৈঠকও কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক সামরিক জোটে যোগদান নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি বা এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ কোনো মন্তব্যও করেননি। তবে সম্প্রতি তুরস্কের একটি পত্রিকায় (ইয়েনি সাফাক) এই জোটে বাংলাদেশ যোগ দিলে কেমন হবে—এ সংক্রান্ত একটি বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছিল। তারপর থেকেই ভারতীয় গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানান আলোচনা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









