ভিনগ্রহের জীবন নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ আগের মতোই প্রবল। অচেনা উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও (UFO) সংক্রান্ত নানা প্রতিবেদন বিতর্ক তৈরি করে চলেছে। অন্যদিকে, পৃথিবীর বাইরে বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা দিন দিন মূলধারায় উঠে আসছে। অনেকের কাছেই, প্রথম যোগযোগ স্থাপন করা মানবজাতির জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয়
অমীমাংসিত রহস্যের একটি। সুতরাং, আপনি যদি একটি ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন দেখতে পান তবে কী করবেন?
মেক্সিকোতে, ভিনগ্রহের প্রাণী দাবি করে দুটি মমিকৃত মরদেহ ইউএফও উৎসাহী জাইমে মাউসান মেক্সিকান কংগ্রেসের সামনে প্রদর্শন করেছিলেন। তবে সমালোচকরা এই অবশেষগুলোকে ভুয়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আমাদের যদি কোনো মহাজাগতিক প্রতিবেশী থেকে থাকে, তবে তারা তাদের প্রযুক্তির অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে এবং আমাদের টেলিস্কোপের মতো যন্ত্র তাদের কাছে থাকলে হয়তো ইতিমধ্যেই আমাদের এসব সংকেত বা তরঙ্গগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছে।
যদি আপনার দরজায় কোনো এলিয়েন এসে হাজির হয়, তবে আপনি কীভাবে সাড়া দেবেন সে বিষয়ে কি কখনো ভেবেছেন? এই মুহূর্তে, আপনি কোনো এলিয়েনের মুখোমুখি হলে ঠিক কী করতে হবে সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা নেই। ভিনগ্রহের প্রাণীরা যদি একটি বিশাল এয়ারশিপ বা ইউএফওতে করে এসে পৌঁছায়, তবে বিষয়টি নজর কাড়ার সম্ভাবনা বেশি। এমনকি কৃত্রিম আলো না থাকলেও, এলিয়েনদের যানটি সূর্যের আলো প্রতিফলন করবে। কিন্তু ধরুন একদিন যদি ভিনগ্রহের প্রাণীরা সত্যিই এখানে চলে আসে, কিংবা আমরা অন্য কোনো গ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্বের প্রমাণ খুঁজে পাই, তবে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করার জন্য আমরা কীভাবে ভাষা বা অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করব?
কারো সাথে যোগাযোগের জন্য ভাষা কোনো উপায় না হলে মানুষ যেভাবে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়, তার অনেক মাধ্যম রয়েছে। অন্যান্য মানুষের ক্ষেত্রে অতীতে যেমনটা দেখা গেছে, এলিয়েনদের ক্ষেত্রেও অঙ্গভঙ্গি বা ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে। ইঙ্গিত এবং হাতের অঙ্গভঙ্গি হতে পারে কথা বলার একমাত্র উপায়। পৃথিবীতে প্রায় ৭,১০০টি ভাষা বলা হয়, যা এলিয়েনদের জন্য বেশ বিভ্রান্তিকর হতে পারে! তবে এসব ভাষা কেবল মানুষই ব্যবহার করে। হয়তো প্রাণীরা যেভাবে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে, তা থেকে ভিনগ্রহের প্রাণীরা কীভাবে যোগাযোগ করতে পারে সে সম্পর্কে আমরা কিছু ধারণা পেতে পারি।
কিছু বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে বিবর্তনীয় চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্বজনীন হতে পারে। আর সেই সূত্রে যে বিবর্তনীয় শক্তিগুলো পৃথিবীর জীবনকে রূপ দিয়েছে, তা এলিয়েনদের মধ্যেও একই ধরনের বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে পারে। এই তত্ত্বটি যদি সঠিক হয়, তবে তার অর্থ দাঁড়ায়—পুরো মহাবিশ্ব জুড়ে জীবন এবং ভাষার মধ্যে কিছু সাধারণ মিল বা বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। কিন্তু এমন কোনো প্রাণীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন না করা পর্যন্ত ভিনগ্রহের ভাষা ডিকোড বা উদ্ধার করা এবং কথা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না, তা জানার কোনো উপায় আমাদের নেই। ইউএফও বা ভিনগ্রহের যান দেখার বিষয়গুলোকে সাধারণত খারিজ করে দেওয়া হয়, কারণ অতীতে কখনোই এলিয়েনদের অস্তিত্বের বিষয়ে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কোনো এলিয়েন যদি আপনার কাছে আসে তবে আপনার কী করা উচিত সে সম্পর্কে কোনো নির্দেশিকা নেই; আপনাকে কেবল আশা করতে হবে যেন প্রাণীটি দয়ালু ও বন্ধুত্বপূর্ণ হয়!
সূত্র: বিবিসি, নাসা


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









