রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহ-অবিশ্বাস ঘনীভূত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে নাগরিকদের একটি সংগঠন। এই অবস্থায় ‘রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি’-র পক্ষ থেকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
হত্যার পর থেকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত ও পুলিশের ভাষ্যের নানা অসংগতির কথা বর্ণনা করে রংপুরের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকলিপিতে এই দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে মোট ১৪টি প্রশ্ন তুলে এসব অসংগতি তুলে ধরে বলা হয়, ’একাধিক সম্ভাবনার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও একটি মাত্র বয়ানকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার কারণে সন্দেহ ও অবিশ্বাস আরও ঘনীভূত হচ্ছে। একটি পরিবারকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার এই ঘটনায় অগণিত যৌক্তিক অসঙ্গতি রয়েছে, যা প্রশাসনের ঝকঝকে বয়ানের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে বলে আমরা মনে করি।’
স্মারকলিপিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি নিশ্চিতের দাবি জানান নাগরিক কমিটির নেতারা। এ সময় ছিলেন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগ, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, বিজয় প্রসাদ তপু, বীথি দাস নন্দিনী, মাহফুজ হোসেন, মসিউর রহমান, সবুজ রায়, মেহেদী হাসান তরুণ প্রমুখ।
২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ওই এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশের ভাষ্য, গ্রেফতারের পর দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত করছে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









