ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় কেউ আসেন সিনেমার চরিত্র হয়ে, কেউ হয়ে ওঠেন ফ্যাশনের গল্প। রবার্ট প্যাটিনসন এবার দুটো ভূমিকাই যেন একসঙ্গে পালন করলেন। ২০২৬ সালের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ল্যান্স ওপেনহেইমের ‘প্রাইমটাইম’ ছবির প্রদর্শনীতে হাজির হয়ে তিনি যেমন নতুন ছবির জন্য আলোচনায় এলেন, তেমনি সাদা ডিওর স্যুটে তৈরি করলেন নিজের আলাদা ফ্যাশন-মুহূর্ত।
শনিবার। ভেনিসের লালগালিচায় প্যাটিনসনের পরনে সাদা ডোরা-কাটা ডাবল-ব্রেস্টেড ব্লেজার ও ট্রাউজার। পুরো পোশাকই ডিওরের। সঙ্গে সাদা-নীল ডোরাকাটা বারগান্ডি টাই, সুয়েড জুতা আর কালো সানগ্লাস। প্রথম দেখায় সাজটি আনুষ্ঠানিক, কিন্তু একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়—এর মধ্যে ইচ্ছাকৃত স্বচ্ছন্দতাও আছে।
সাদা পোশাকের মাঝে বারগান্ডি টাই এবং ভিন্ন রঙের জুতা যেন সাজটিতে খানিক দুষ্টুমি যোগ করেছে। কালো সানগ্লাসও সেই ভাবটাকে আরও স্পষ্ট করেছে। পরিপাটি, মার্জিত, কিন্তু খুব বেশি গম্ভীর নয়। তাই প্যাটিনসনের এই চেহারাকে ‘নিও-ড্যান্ডি’ বললেও বাড়াবাড়ি হয় না।

সিনেমার চরিত্রেও নতুন প্যাটিনসন
‘টুইলাইট’ সিরিজের এডওয়ার্ড কালেন চরিত্র দিয়ে একসময় কিশোর-তরুণদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন প্যাটিনসন। সেই সময়ের ভ্যাম্পায়ার-তারকা এখন অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করছেন।‘প্রাইমটাইম’-এ তাকে দেখা যাবে টেলিভিশন সাংবাদিক ক্রিস হ্যানসনের চরিত্রে।
ছবিটির গল্প তৈরি হয়েছে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘টু ক্যাচ দ্য প্রেডিয়েটর’-কে ঘিরে। অপরাধ অনুসন্ধানে আন্ডারকভার পদ্ধতি ব্যবহার এবং সেই তদন্তের পুরো প্রক্রিয়া টেলিভিশনে দেখানোর মতো সাংবাদিকতার নতুন ও বিতর্কিত ধারাই ছবিটির কেন্দ্রে। অর্থাৎ ভেনিসে প্যাটিনসনের উপস্থিতি শুধু ফ্যাশনের জন্য নয়। নতুন সিনেমায় তার চরিত্র নিয়েও দর্শকের আগ্রহ কম নয়। তবে লালগালিচায় সেই চরিত্রের চেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তার পোশাক।
ডিওরের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক
ডিওরের সঙ্গে প্যাটিনসনের সম্পর্ক নতুন নয়। ফরাসি এই ফ্যাশন হাউসের পোশাকে তাকে আগেও দেখা গেছে। এখন ডিওরের সৃজনশীল পরিচালক জোনাথন অ্যান্ডারসন পুরুষদের পোশাকে ঐতিহ্যকে নতুনভাবে ভাবছেন। পুরোনো কাট ও কাঠামোর সঙ্গে রং, উপকরণ এবং ভিন্ন ধরনের পোশাকের সমন্বয় তার নকশায় গুরুত্বপূর্ণ।
প্যাটিনসনের এবারের সাজেও সেই নতুন ভাবনার ছাপ আছে। ডাবল-ব্রেস্টেড স্যুট—পুরুষদের পোশাকের একেবারে চেনা ঐতিহ্যবাহী ধরন। কিন্তু পুরোটা সাদা, সঙ্গে গাঢ় টাই ও আলাদা জুতা। ফলে পুরোনো সৌন্দর্যের সঙ্গে নতুন স্বভাব মিলেছে।
পাশে সুকি
প্যাটিনসনের এই ফ্যাশন-মুহূর্তে তার পাশে ছিলেন স্ত্রী, গায়িকা সুকি ওয়াটারহাউস। হালকা সবুজ সেন্ট লরাঁ লেসের পোশাকে তাকেও দেখা যায়। তার হাই হিলের রঙে প্যাটিনসনের টাইয়ের সঙ্গে একধরনের সামঞ্জস্য ছিল।
২০২৪ সালের মার্চে তাদের কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তবে সন্তানকে তারা বরাবরই ক্যামেরার আড়ালে রেখেছেন। নিজেদের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও দুজনই বেশ সংযত। প্রকাশ্য তারকাজীবনের মাঝেও ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যক্তিগত রাখার এই প্রবণতা তাদের আলাদা করে তুলেছে।

ভেনিসে আসার সময়ও কম আয়োজন
লালগালিচার সাদা ডিওর স্যুটের বাইরে ভেনিসে পৌঁছানোর সময় প্যাটিনসনের পোশাক ছিল আরও সহজ। ঢিলেঢালা, পরিষ্কার কাটের স্যুটের সঙ্গে হালকা নীল শার্ট—শার্টটি গুঁজে পরেননি। পায়ে ডেনিম স্নিকার্স, চোখে আয়তাকার সানগ্লাস।
কয়েকটি সাধারণ পোশাক ও অনুষঙ্গ দিয়েই তৈরি হয়েছিল তার চেহারা। তবু সেটি একেবারেই সাদামাটা নয়। বরং প্যাটিনসনের ব্যক্তিগত স্টাইলের সঙ্গে বেশ মানানসই।
এই সাজের সবচেয়ে আলোচিত অংশ অবশ্য চুল। ভেজা-ভেজা ভাব রেখে পেছনে আঁচড়ানো চুল বারবার এক পাশে সরিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। সেপ্টেম্বরের ভেনিসের রোদে দাঁড়িয়ে ভক্তদের একের পর এক অটোগ্রাফও দিয়েছেন। চুলের এই সামান্য অগোছালো স্বভাবই যেন গোটা সাজে প্রাণ এনে দিয়েছে।
প্যাটিনসনের ফ্যাশনের সৌন্দর্য সম্ভবত এখানেই। তিনি খুব বেশি কিছু পরেন না, আবার পোশাককে অদৃশ্যও করে দেন না। কয়েকটি সঠিক উপাদান, সামান্য বৈপরীত্য আর নিজের স্বাভাবিক ভঙ্গি—এই তিনেই তৈরি হয় তার উপস্থিতি।
ভেনিসে এবারও তাই রবার্ট প্যাটিনসন মনে করিয়ে দিলেন, স্টাইল মানেই সব সময় চোখ ধাঁধানো কিছু নয়। কখনো কখনো সবচেয়ে মনে থাকার মতো পোশাকটি হলো সেটিই, যেটিকে দেখে মনে হয়—‘এটা যেন খুব সহজেই পরা হয়েছে।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









