উজানের ঢলে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি দ্রুতগতিতে বেড়ে বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়তে থাকায় পদ্মার দক্ষিণ তীরের চরখিদিরপুর, খানপুরসহ বিভিন্ন চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার অনেক পরিবার। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, পদ্মার পানি বাড়লেও এখন পর্যন্ত রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধে কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সতর্ক অবস্থান রয়েছে তাদের। বাঁধের কোনো স্থানে ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাউবোর মিটারগেজ রিডার এনামুল হক বলেন, এখনো পদ্মার পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নদীর দক্ষিণ তীরের চরাঞ্চলগুলোতে পানি উঠছে। তিনি জানান, উজানের ঢলে গত প্রায় ১০ দিন ধরে পদ্মায় পানি বাড়ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ০৫ মিটার। শুক্রবার সকাল নয়টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ২০ মিটারে। গতকাল শনিবার সকাল নয়টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ৩০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। এরপরও পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর বিপরীত পাশে ভারত সীমান্তঘেঁষা চরখিদিরপুর ও খানপুরের বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় ইয়াসির আলী বলেন, গত সপ্তাহ থেকেই নদীতে পানি বাড়ছে। আগে এদিকে মিডলচর ছিলো। সেখানে বিনোদন স্পটও তৈরি হয়েছিল। কিন্ত মাত্র ৩-৪ দিনের ব্যবধানে সব ডুবে গেছে। রাহেমা বেগম বলেন, ‘পানি বেড়ে যাওয়ায় আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। খুবই কষ্টে দিন পার করছি। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আমাদের জন্য সমস্যা।’
অন্যদিকে পদ্মাবেষ্টিত নগরীর গুড়িপাড়ার নিম্নাঞ্চলেও পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকের বাড়ির আঙিনায় হাঁটু সমান পানি জমাট হয়েছে। নিচুঁ ঘরের মেঝেতেও পানি চলে এসেছে। এতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসন জানায়, পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটে পড়াদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার পানিবন্দি মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তাদের জন্য দুপুরের খাবারেরও ব্যবস্থা করেন তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, চর খিদিরপুর ও মিডলচরে পানি ওঠায় প্রায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে প্রায় ২৫ ধরনের পণ্য রয়েছে।তিনি জানান, বন্যাকবলিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চর, মাঝারচরসহ তিনটি স্থানে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে।
এসব ক্যাম্পে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে মেডিকেল ক্যাম্পও চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









