তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক ‘জোড়াফুল’ এবং ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বে আপাতত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত দিয়েছে ’ভারতীয় নির্বাচন কমিশন’। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দলের ওপর কার অধিকার থাকবে, তা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো পক্ষই দলের নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে, ২৮ বছর পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের কোনো নির্বাচনে ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক ছাড়াই লড়তে হবে তৃণমূলের দুই পক্ষকে।
আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হতে যাচ্ছে। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় কোন্দলে ভাঙনের শিকার হয়ে নাম ও প্রতীক দুই-ই হারিয়ে এখন নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। রাজ্যে আগামী ৬ অক্টোবর দুটি আসনে উপনির্বাচনের আগে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল এবং বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় ও অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন দলটির অন্য অংশকে পৃথক নাম ও নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এনডিটিভি সূত্রে জানা যায়, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল উপনির্বাচনে লড়বে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে। তাদের প্রতীক হবে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’।
অন্যদিকে ঋতব্রত ও অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন গ্রুপটি নির্বাচনে লড়বে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে। তাদের প্রতীক হবে ‘খাম’। দেশটির নির্বাচন কমিশন গতকাল শুক্রবার জারি করা এক আদেশে বলেছে, পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় এবং ত্রিপুরা- এই তিন রাজ্যে তৃণমূলের উভয় অংশকেই স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ্য করা হবে। এর আগে দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোন্দলের জেরে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন এক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে মূল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও তাদের নির্বাচনি প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এরপরই এই নতুন বরাদ্দের সিদ্ধান্ত এলো।
আন্দবাজার সূত্রে জানা যায়, ‘জোড়াফুল প্রতীক’ স্থগিত হওয়ার পর তৃণমূলের দুই শিবিরকেই নতুন নাম এবং প্রতীক বেছে নিতে বলেছিল কমিশন। সেই অনুযায়ী একাধিক নাম-প্রতীকের বিকল্প প্রস্তাব দুই তরফ থেকেই কমিশনে পাঠানো হয়। তার ভিত্তিতে জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশন দলের উভয় অংশকেই নতুন নাম ও প্রতীক বরাদ্দের সিদ্ধান্ত দেয়। মমতা তার দলের তিনটি বিকল্প নাম এবং দুটি প্রতীক কমিশনের কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠিয়েছিলেন।
প্রস্তাবিত নামগুলো ছিল- সর্বভারতীয় তৃণমূল মমতা কংগ্রেস, সর্বভারতীয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতীক হিসেবে মমতা বেছে নিয়েছিলেন ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’ এবং ‘ক্রিকেট ব্যাট’। এর মধ্যে প্রথমটিতেই সায় দিয়েছে কমিশন। ঋতব্রতদের তরফে তিনটি নাম এবং তিনটি প্রতীকের প্রস্তাব কমিশনে পাঠানো হয়। নামগুলো ছিল- জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস। দ্বিতীয় নামটি তাদের দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতীক হিসেবে খাম, ব্ল্যাকবোর্ড এবং টর্চের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ঋতব্রতেরা। এর মধ্যে ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে তাদের।
আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বিধানসভার উপনির্বাচন রয়েছে। সব পক্ষই তার জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের দুই শিবির কোন প্রতীক বা নামে লড়বে, তা স্পষ্ট ছিল না। কমিশনের নির্দেশ সকল জল্পনা-কল্পনার সমাপ্তি টেনে দিল। কমিশনের নির্দেশনার পর ঋতব্রত বলেন, ‘প্রতীকের ক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই নাম তাদের পছন্দের তালিকায় তৃতীয় ছিল।
ঋতব্রত বলেন, ‘আমাদের প্রথম পছন্দ ছিল, জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস। দ্বিতীয় পছন্দ ছিল পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দুটো নাম কোনও কারণে দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতীকের ক্ষেত্রে যা চেয়েছিলাম তাই দেওয়া হয়েছে। কমিশনের যোগ্যতা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন তোলার জায়গা নেই। তাদের নির্দেশকে সম্মান জানাই।’
মমতা শিবিরের নামকরণকে কটাক্ষ করে ঋতব্রত বলেন, ‘আমাদের দলের নামে কিন্তু কোনও ব্যক্তির নাম নেই। আমাদের আলোচনার মধ্যেই ছিল না কোনো ব্যক্তির নাম। গণতন্ত্রে আমরা জোর দিচ্ছি। এটা কোনো ব্যক্তিগত মালিকানার দল নয়।’
অন্যদিকে কমিশনের নির্দেশের পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ পোস্ট করেছেন মমতাপন্থি বিধায়ক কুণাল ঘোষ। পায়ে ফুটবল নিয়ে খেলোয়াড়ের পোশাক পরা নিজের ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘খেলা হবে। মমতাদির নামটাই যথেষ্ট। তৃণমূল কংগ্রেস তো তারই সৃষ্টি, তারই অধিকার।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









