আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় প্রথমবারের মতো ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্প মঙ্গলবার রদ্রিগেজের সঙ্গে ‘সংক্ষিপ্ত বৈঠকে’ অংশ নেবেন।
গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
রদ্রিগেজ মাদুরোর সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তবে ক্ষমতা নেওয়ার পর তিনি এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের বিভিন্ন দাবির সঙ্গে সহযোগিতা করে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রবেশাধিকার দেওয়া। বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুতের দেশগুলোর একটি ভেনেজুয়েলা।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে, যেটিকে ট্রাম্প ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার তেল মজুতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়ার কথা জানিয়েছে দুই দেশ।
তবে রদ্রিগেজের সমালোচকেরা এই চুক্তির নিন্দা করে বলেছেন, এর মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে জি-২০-এর জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠকের সময় মার্কিন তেল কোম্পানি কন্টিনেন্টাল রিসোর্সেস ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-র সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।
চুক্তির আওতায় বিপুল তেলসম্পদের জন্য পরিচিত ভেনেজুয়েলার অরিনোকো অববাহিকা থেকে তেল উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এই প্রকল্পকে ‘যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের একটি মাইলফলক চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি এটিকে ‘পশ্চিম গোলার্ধকে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক চুক্তি’ বলে উল্লেখ করেন।
গত জানুয়ারিতে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আকস্মিক মার্কিন সামরিক অভিযানে আটক করা হয়। পরে তাদের নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে নেওয়া হয়।
মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিচার হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: এএফপি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









