গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চের প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ভোগড়া বাইপাস মোড়ে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হওয়ার পর থেকেই ভোগড়া বাইপাস এলাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সড়কের টাঙ্গাইলমুখী লেনের দুই পাশে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। লংমার্চের বহর গাজীপুরে পৌঁছানোর অপেক্ষায় পথসভাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
ভোগড়া বাইপাস মোড়ে প্রস্তুত করা মঞ্চে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও জোটের নেতারা বক্তব্য দেন। কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
জোটের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ করা।
জোটের নেতারা বলছেন, এসব দাবিতে জনসম্পৃক্ততা তৈরি এবং সরকারের কাছে দাবি তুলে ধরতেই এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত কর্মসূচির বিভিন্ন পর্যায়ে পথসভা ও সমাবেশের মাধ্যমে দাবিগুলো তুলে ধরা হবে।
লংমার্চ ও ভোগড়া বাইপাসের পথসভাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। স্থানীয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মাইকিং, ব্যানার-ফেস্টুন টানানো এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী ড. হাফিজুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পথসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা কয়েকদিন ধরে মাঠে কাজ করেছেন বলেও তারা জানান।
এর আগে লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি, জনসমাগম ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি দেখতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ মোবারক হোসাইনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ভোগড়া বাইপাসের সভাস্থল পরিদর্শন করে।
এ সময় ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিক, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, গাজীপুর মহানগর আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, নায়েবে আমির মোহাম্মদ খাইরুল হাসান ও হোসেন আলী, সেক্রেটারি আ স ম ফারুক এবং মেট্রো সদর থানা আমির ছাদেকুজ্জামান খানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচি সম্পর্কে ড. হাফিজুর রহমান বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি দেশের আপামর জনতার মৌলিক অধিকার আদায়ের গণসংগ্রাম। সাধারণ মানুষ আজ চরম সংকটে—বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল ও সারের সংকটে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জর্জরিত। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন অতিষ্ঠ। এর পাশাপাশি জুলাই গণহত্যার বিচার ত্বরান্বিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এই লংমার্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ‘জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পথচারী ও জোটের কর্মীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আমাদের স্বেচ্ছাসেবক টিম সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে।
ড. হাফিজুর রহমানের দাবি, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গাজীপুর নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ কর্মসূচিটির প্রতি জনসম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরছে।
এদিকে লংমার্চকে কেন্দ্র করে ভোগড়া বাইপাস ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচলে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নজর রাখা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









