ভারতে ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর হাতে আটক হওয়া রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাঁচ বাংলাদেশি ১১ দিন পর দেশে ফিরেছেন।
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদের উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা দেশে ফেরেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভারতের সাগরপাড়া সীমান্তের বিএসএফ ক্যাম্প থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তারা।
আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন পদ্মা নদীর তীরে তাদের গ্রহণ করেন সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ। পরে তিনি পাঁচজনকে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন।
ফিরে আসা পাঁচজন হলেন বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন, সাহাবুল আলী, বাবর আলী (৪০), সাইফুল ইসলাম ও আশাদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের মধ্যে মোশাররফ, সাহাবুল ও বাবর আলী পাট ব্যবসায়ী। অপর দুজন নৌকার মাঝি।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার বাংলাবাজার চর থেকে পাট কিনে নৌকাযোগে বাঘায় ফেরার সময় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন তারা। একপর্যায়ে নৌকাটি ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার অভ্যন্তরে চলে যায়। এ সময় বিএসএফের একটি টহল দল তাদের আটক করে।
আটকের পর পরিবারের সদস্যরা বিজিবির আলাইপুর বিওপি ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন। পরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আটক ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়।
বিষয়টি জানার পর পাঁচ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেন সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ। তিনি গত রোববার রাজশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। সেখানে আটক বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।
পাশাপাশি বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন।
সংসদ সদস্যের ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার পাঁচ বাংলাদেশিকে ছেড়ে দেয় বিএসএফ। পরে তারা আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসেন।
পাঁচজনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সময় আবু সাইদ চাঁদ বলেন, “নদীর স্রোতের কারণে ভুলবশত তারা বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার পর থেকে আমি কখনও ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়ে, কখনও বিজিবির সিওর সঙ্গে, আবার কখনও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। আমার এলাকার প্রতিটি নাগরিক আমার কাছে নিজ সন্তানের মতো আপন। তাদের পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি খুশি।”
এসময় চারঘাট পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালেক আদিল, স্বজল খান, মনিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন রিয়াল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ মুকুলসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন পর স্বজনদের কাছে পাঁচ বাংলাদেশির ফিরে আসায় তাদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









