নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ২০ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৮২ জন। অতিরিক্ত রোগীর কারণে একটি বেডে তিন থেকে চারজন পর্যন্ত চিকিৎসা নিচ্ছেন। জায়গা না পেয়ে অনেকে বারান্দা, গাছতলা কিংবা ভ্যানের ওপর বসে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে হাসপাতালটিতে এমন চিত্র দেখা যায়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যা ২০টি হলেও বর্তমানে রোগী রয়েছেন ৮২ জন। তাদের মধ্যে ৫৩ জন পুরুষ, ২৯ জন নারী ও ২৭ জন শিশু। প্রতিদিন গড়ে আরও ৩০ থেকে ৩৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।
হাসপাতাল চত্বরে দেখা যায়, গাছের ডালে স্যালাইনের বোতল ঝুলিয়ে শিশুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এক মা। অন্যদিকে, ওয়ার্ডের বাইরে ভ্যানের ওপর বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন এক নারী। ওয়ার্ডের ভেতরেও অতিরিক্ত রোগীর কারণে ঠাসাঠাসি অবস্থা তৈরি হয়েছে।
সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের ইপিজেড এলাকার বুলবুলি বেগম ১৬ মাস বয়সী নাতিকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘ভেতরে কোনো বেড খালি নেই। বারান্দাতেও জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এমনকি বাচ্চার স্যালাইনও গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখতে হচ্ছে।’
শিশুটির মা জান্নাতুন বেগম বলেন, ‘বাচ্চাকে কোলে করে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। একটি বেডে তিন-চারজন করে শুয়ে আছে। ভেতরে অনেক গরম। তারপরও বাচ্চার চিকিৎসার জন্য থাকতে হচ্ছে।’
কচুকাটা এলাকা থেকে আট মাস বয়সী শিশু লামিয়াকে নিয়ে হাসপাতালে আসা মল্লিনা আক্তার বলেন, ‘বাচ্চা অসুস্থ হয়েছে। এখন যেকোনোভাবে চিকিৎসা নিতে হবে। আমাদের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই।’
ভ্যানের ওপর বসে চিকিৎসা নেওয়া আসমা বেগম বলেন, ‘ভেতরে জায়গা নেই, বারান্দাতেও বসার মতো জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে স্বামীর ভ্যানের ওপর বসে চিকিৎসা নিচ্ছি।’
হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ মল্লিকা রায় বলেন, ‘ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যা ২০টি। বর্তমানে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। একটি বেডে দুজন, তিনজন কিংবা চারজন পর্যন্ত চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রতিদিন নতুন করে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘সামর্থ্য অনুযায়ী সব রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী মোটামুটি রয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জায়গা ও ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল্লাহ হেল মাফি বলেন, ‘ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতার প্রায় চারগুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসা দিতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে থাকা কিছু বেডেও ডায়রিয়া রোগীদের স্থানান্তর করা হয়েছে। এর বাইরে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ ভাইরাসজনিত রোগীদের অন্যত্র দিলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









