সিএনএনসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিনটি সংবাদমাধ্যমকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠাৎ হোয়াইট হাউস থেকে বহিষ্কার করার পেছনে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী নাটালি হার্পের ভূমিকা রয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে টিভি অ্যাঙ্কারদের প্রচারিত কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ট্রাম্পকে দেখান নাটালি। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার ঘোষণা আসে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন নাটালি হার্প তাঁকে ‘এমএস নাও’-এর সমালোচনামূলক ভিডিও ক্লিপগুলো দেখান। এর পরপরই ট্রাম্প তাত্ক্ষণিকভাবে ‘সিএনএন’, ‘এমএস নাও’ এবং 'পলিটিকো'-কে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
শনিবার সকালের মধ্যেই এই তিন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রবেশদ্বারে আটকে দেওয়া হয় এবং তাঁদের প্রেস পাস ও পরিচয়পত্র নিষ্ক্রিয় বা বাজেয়াপ্ত করা হয়। ফলে সিএনএনের বেটসি ক্লেইন এবং এমএস নাও-এর আকায়লা গার্ডনারের মতো সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের বাইরের রাস্তা থেকে সরাসরি সম্প্রচার করতে দেখা যায়।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এই গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে 'মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য' ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। পরবর্তীতে তিনি জানান, নির্দিষ্ট কোনো একটি ঘটনার জন্য নয়, বরং গত কয়েক বছর ধরে তাদের পক্ষপাতমূলক সংবাদ দেখে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন বলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে তাঁর প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
এমএস নাও-এর প্রতিনিধি আকায়লা গার্ডনার বলেন, ‘আমি জানতে চেয়েছিলাম কেন আমাকে ভেতরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি আমাকে জানান যে এটি তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ারের বাইরে।’ 'পলিটিকো' জানিয়েছে, তাদের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি শায়েন হাসলেটকেও প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো—সবকটি প্রতিষ্ঠানই এই বিধিনিষেধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সংবাদ পরিবেশন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। সিএনএন এই পদক্ষেপকে তাদের সংবিধান-সুরক্ষিত সাংবাদিকতার অধিকারের ওপর 'বেআইনি আক্রমণ' বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে এমএস নাও জানিয়েছে, তারা তাদের প্রথম সংশোধনীর অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই কড়াকড়ি বা নিষেধাজ্ঞা কেবল এই তিনটি সংস্থাতেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। শুক্রবার অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নিউইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াশিংটন পোস্ট-এর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এগুলোকে 'ভুয়া খবর' এবং 'অপদার্থ পত্রিকা' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো হোয়াইট হাউসে এই পত্রিকাগুলো আর প্রদর্শন করব না। তবে এখনও পর্যন্ত তাদের বের করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ আমরা নিইনি।’ এছাড়া বাইডেন প্রশাসনের সময় কেনা সরকারি সাবস্ক্রিপশনের বিষয়টি তুলে ধরে ট্রাম্প 'পলিটিকো'র বিশেষ সমালোচনা করেন। সূত্র: দ্য ডেইলি মেইল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









