সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিএনপিপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। গতকাল সোমবার সকাল নয়টার দিকে তাঁরা ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কার্যালয়ে যেতে পারেননি উপাচার্যও।
গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বর্তমান উপাচার্যের সময়ে নিয়োগ, কেনাকাটা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিয়োগ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং নিম্নমানের সামগ্রী কেনার অভিযোগও রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ অন্য খাতে ব্যয় দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধনের নামে ভর্তি পরীক্ষার আয় থেকে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে রাখা, কোনো কোনো শিক্ষকের বেতন বন্ধ, শোকজ, হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগও করেন তাঁরা।
সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, উপাচার্যকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। দাবি মানা না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
সাদা দলের নেতা অধ্যাপক ড. মো. ছিদ্দিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক, সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতাউর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. কাজী মেহতাজুল ইসলাম, সহসভাপতি অধ্যাপক ড. নাজমুল হক, জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সানাউল হোসেন সনি।
আন্দোলনরত শিক্ষকেরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বর্তমান প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মবহির্ভূতভাবে বদলি করা হচ্ছে এবং ফাইলের অজুহাতে তাঁদের মানসিক চাপে রাখা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে একাধিক কমিটি গঠন করা হলেও সেগুলোর যথাযথ ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি ও থেরিওজেনোলজি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বলেন, উপাচার্য কোনো নিয়মনীতি মানছেন না। তাঁর অভিযোগ, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে জামায়াত ও আওয়ামীপন্থী ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ওই শিক্ষক আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার পরও প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। উচ্চতর তদন্তের কথা বলে বিষয়টি নয় মাস ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, উপাচার্য জামায়াতের অনুসারীদের পুনর্বাসন করছেন। তাঁদের দাবি, অধ্যাপক ড. মাহবুব ই ইলাহীকে অতিরিক্ত ট্রেজারের দায়িত্ব এবং ড. সুলতান আহমেদকে পরিবহনের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, মাহবুব ই ইলাহী আগে সিলেট জেলা জামায়াতের আমির ছিলেন। আর ড. সুলতান আহমেদ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের শ্যালক হিসেবে পরিচিত।
শিক্ষকদের ভাষ্য, ওই দুজনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ছিল না। এরপরও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের বিষয়গুলো আড়াল করতেই তাঁদের এসব পদে বসানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









