টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণে রাতের আঁধারে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এমন খবর পেয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে নির্মাণাধীন সেতুটি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। তিনিও বিষয়টির সত্যতা পেয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস জানায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দৈর্ঘ্য গার্ডার সেতুটি পুনর্নির্মাণের কাজ করছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির। সেতুটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ও শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। পরে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ পর্যন্ত ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ২০ শতাংশ কাজ বাকি আছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান, সেতুটি নির্মাণে শুরু থেকেই কাজে অনিয়ম করে আসছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দিনের কাজ রাতের আঁধারে করা হচ্ছিল। এতে সন্দেহ হলে তারা গোপনে নজরদারি চালান। একপর্যায়ে সেতুর কাজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখতে পান।
স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, ‘সেতুটিতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। সরকার যে টাকা দিল, এই টাকাগুলো তাহলে গেল কই? আর এতো দুর্নীতি করছে আমাদের এই সেতুতে! এই ঠিকাদারের সঙ্গে আরও হয়তো স্থানীয় মানুষ জড়িত আছেন। নয়তো ঠিকাদার তো এই জায়গায় এসে এভাবে সাহস পাবেন না বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার। সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক ও বিচার চাই।’
আরেক বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, সেতুর কাজ হবে দিনে, তারা কাজ করছে রাতে। রাতে এলাকার ছেলেরা সেতুতে গিয়ে দেখে, বাঁশ দিয়ে ঢালাই দিতেছে। কিছু বালি-সিমেন্ট ও বাঁশ দিয়ে কাজ করছে। তাদের বিচার হওয়া দরকার।’
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এই গ্যাপগুলোর ভেতরে খোলা। ভেতরের তো শাটার বের করার সুযোগ নেই। বড়গুলোর ভেতরে শাটার দিয়ে কাজ করেছি, আর ওইগুলো এই গ্যাপ দিয়ে বের করেছি। আর এইটা বাঁশ দিয়ে স্লাব বানিয়ে ওপরে সিমেন্টের একটা বস্তা দিয়ে খাঁচা দিয়ে আমরা ঢালাই করেছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জেনে সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করি। সেখানে রডের বদলে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সেতুটির নির্মাণ কাজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। তবে এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না। এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করা হবে।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









