দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ও বিকাশে চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বন্ধুত্ব জোরদার করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রীমর্যাদা) জহির উদ্দিন স্বপন।
গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের এ অবস্থান জানান তিনি। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বহুমুখী সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণ ও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। চীনের সফররত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য চাও চুনমিন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ও বিকাশে চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বন্ধুত্ব জোরদার করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষে বিদায় নিতে যাওয়া চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের কূটনৈতিক অবদানের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘১৯৭৬ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের যে পথচলা শুরু হয়েছিল, পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে তা আরো সুদৃঢ় ও গতিশীল হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি চীনের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ত্বরান্বিত করা সম্ভব।’
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘চীন থেকে প্রতি বছর ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির পরিমাণ মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের নিচে।’ এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে চীনা সরকার বাংলাদেশি পণ্যে প্রায় শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে বিনামূল্যে একটি প্রদর্শন কেন্দ্র (ডিসপ্লে সেন্টার) ও দুই হাজার বর্গকিলোমিটার সুবিধার স্টোরেজ বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও সড়ক যোগাযোগের নতুন অর্থনৈতিক করিডোর উন্মোচিত হলে তা বাংলাদেশ ও চীন- উভয় দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।’
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ দুই দেশ এবং তাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ। বিশেষ করে চীনের ইউনান প্রদেশ ও বাংলাদেশের মধ্যে পরিবহন, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, পর্যটন ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরো বাড়াবে এবং ‘বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে। চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও বাণিজ্যিক সংগঠন বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলগুলোর সফর দুই দেশের সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি বলেন, চীনা দূতাবাস দুই দেশের পারস্পরিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একটি সেতু হিসেবে কাজ করে যাবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যৌথ সমৃদ্ধি অর্জনে চীন দৃঢ় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল হক নান্নু। অনুষ্ঠানে ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং চীনা প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









