কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রশাসনিক ভবনে আটকে থাকা ১৪ থেকে ১৫ জন শিক্ষক প্রায় ৩৩ ঘণ্টা পর বের হতে পেরেছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাঁরা ভবন থেকে বের হন। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাত সাড়ে নয়টার দিকে শিক্ষকরা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের হতে পেরেছেন। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে এখনো ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার বেলা ১১টার দিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজকে মুক্ত করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাঁরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন এবং ফটক অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে ফটকে তালা দেওয়ায় ভবনের ভেতরে থাকা শিক্ষকরা বের হতে পারেননি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাঁদের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির মর্যাদা ও শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে বের করে আনতে হবে। একই সঙ্গে কলেজটিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধীনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাবসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
আন্দোলনকারি শিক্ষার্থী চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহাদ দৈনিক এদিনকে জানান, শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হতে পারলেও দাবির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









