বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেছেন, দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে এই শিল্প। এই সেক্টরকে তুলে ধরতে প্রতিমাসে একটি করে পণ্যভিত্তিক মেলা করব। এটা একটা পরিকল্পনা। চামড়া পণ্য দিয়ে শুরু করেছি। ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। অ্যাচিভমেন্টটা হচ্ছে সব শ্রেণির মানুষ এসেছে। সম্প্রতি বিসিক ভবনে চেয়ারম্যানের অফিসে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বেনজীর আহমেদ বলেন, এবারের মেলায় মানুষের আস্থা অর্জন করেছে বিসিক। এখানে প্রকৃত চামড়া পণ্যটা এবং দেশীয় পণ্য গেছে। আমাদের যারা ক্ষুদ্র চামড়াপণ্য উৎপাদনকারী, যারা বিভিন্ন প্রোডাক্ট তৈরি করছে, আমাদের উদ্যোক্তারা ফুটওয়্যার, মানিব্যাগ, কার্ড হোল্ডার, ব্যাগ, বেল্ট, অফিস ব্যাগ, ল্যাপটপ ব্যাগসহ অনেক ধরনের পণ্য তৈরি করছে। এ ছাড়া এবার নতুন ধরনের কিছু পণ্য এসছে; সেটা হচ্ছে চামড়ার জায়নামাজ।
বড় ব্যাপার হচ্ছে, উদ্যোক্তাদের সাহসী করতে পেরেছি, অনুপ্রাণিত করতে পেরেছি। তারা অনুপ্রেরণা পেয়েছে, আর যারা ক্রেতা এখানে এই মেলায় এসে তারা আস্থার সঙ্গে পণ্য ক্রয় করতে পেরেছে। আমি মনে করি এটা অবশ্যই দেশীয় উৎপাদক এবং যারা ক্ষুদ্র উৎপাদক, যারা চামড়া পণ্য তৈরি করছে অবশ্যই দেশীয় পণ্য প্রসারে কাজে দেবে। রপ্তানির বিষয়ে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, এক্সপোর্টের বিষয়ে আপনারা জানেন- একটা চামড়া শিল্পনগরী আছে, বিসিকের সিটিপিতে এ সংক্রান্ত কিছু জটিলতা আছে, বিগত দিনে যেটা হয়েছে এটা পুরোপুরি ফাংশনাল নাই। এ ধরনের একটা বিষয় আছে। এটা নিয়ে কাজ করছি।
এলডব্লিউজি লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সার্টিফিকেশন প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য খুবই তৎপর আছি। কাজ করছি। আজকেও এটা নিয়ে মিটিং ছিল মন্ত্রণালয়ে। দেখা যাক অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছি। আশা করছি চামড়া ও চামড়াপণ্য আগামীতে রপ্তানিতে বড় আকারে দখল করতে পারব। সরকার এ ব্যাপারে খুব তৎপর। এলডব্লিউজি সার্টিফিকেশনের জন্য কাজ করছি। আশা করি এটা পারব।
বেনজীর আহমেদ বলেন, কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করলেই বাজারটা তৈরি হবে ভালোভাবে। কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতের জন্য খুব মনোযোগ সহকারে কাজ করছি। চিন্তা করছি হাজারীবাগ কেন্দ্রিক যারা ছোট ছোট ব্যবসায়ী আছে যারা ফিনিশড প্রোডাক্টও তৈরি করছে, তাদের জন্য আলাদা একটা চামড়াপণ্য পল্লী করা যায় কিনা এটা ভাবছি। এ বিষয়ে এগোনোর চেষ্টা করছি। ওয়েস্ট কিভাবে কমানো যায় সেটা নিয়েও ভাবতে হবে।
চামড়া কিভাবে সংরক্ষণ করা যায়, যে পশু কোরবানি হয় এ চামড়াগুলো কিভাবে সংরক্ষণ করা যায়। আমাদের দক্ষ কর্মীর অভাব। চামড়াটা যখন পশুর গা থেকে ছাড়াই তখন এটা দক্ষতার সঙ্গে হয় না। সেক্ষেত্রে অনেক চামড়া নষ্ট হয়। এটা যখন ট্যানারিতে যায় তখন বোঝা যায়। এটা আপনি-আমি হয়তো বুঝব না। কিন্তু এটা যখন প্রসেসে যায় তখন এটা বোঝা যায়। এটা সচেতনতার ব্যাপার। এটাও আমলে নিয়েছি যাতে ওয়েস্ট কমানো যায়।
বিসিকের ঋণ দান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিসিকের নিজস্ব ম্যাকানিজমে ঋণ প্রদান করে। এতে সরাসরি উদ্যোক্তারা বিসিক থেকে লোন পায়। যার কারণে তারা খুব কম ইন্টারেস্টে এটা কাজে লাগাতে পারি। এতে প্রকৃতই উপকৃত হয়। অতি ক্ষুদ্র থেকে হয়তো ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হয়। এটা হচ্ছে জেলা ভিত্তিক দেয়া হয় আর কি। ২ লাখ টাকা এটা ম্যাক্সিমাম তাদের প্রদান করা হয়।
জামদানি প্রসঙ্গে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, জামদানি আমাদের জিআই পণ্য। কাজেই চেষ্টা করছি বংশপরম্পরায় যারা জামদানি শিল্পের সঙ্গে জড়িত এদের কিভাবে সহযোগিতা দিয়ে এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রাখা যায় এবং কিভাবে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায় সে ব্যাপারে মনোযোগী আছি এবং প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। জামদানির ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে।
গত কিছুদিন আগে ৬ মাসব্যাপী এ কোর্সের উদ্বোধন করে এসছি। এভাবে প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরি করছি এবং চেষ্টা করছি সামনে জামদানি মেলা করব। তিনি বলেন, জামদানি মেলা করছি সেখানে হয়তো দেখা গেল আরো বিভিন্ন রকম পণ্য সেখানে ঢুকে যাচ্ছে। খুব কাছাকাছি যেসব পণ্য থাকে এসব অ্যাফেক্টেড হয়। কাজেই জামদানি যেহেতু আমাদের জিআই পণ্য একে কিভাবে আরো ব্যাপকভাবে তুলে ধরা যায় তা নিয়ে চিন্তা করছি। চেষ্টা করব, সামনে ফলাফল দেখতে পারবেন।
অভিযোগ নিয়ে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন সেক্টরে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। আমি তো নতুন দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র, এগুলো দেখতে হবে যে কোথায় কি অভিযোগ আছে। যেখানে সমস্যা হচ্ছে সেখানে সমাধান কিভাবে করা যায়, সেই রাস্তা তৈরি করব।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









