দলমত-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে মানবিক এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করার জন্য দাবি উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, রাড্ডায় হামলা ও ভাঙচুরকারীদের সঙ্গে আঁতাতকারী গডফাদারদের মুখোশ উন্মোচন এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে গতকালও রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের ঘটনাস্থলে গণজোয়ার স্লোগানে মুখরিত ছিল। পাশাপাশি লোকজন সম্মিলিতভাবে রাড্ডার মূল ফটকের দখলবাজদের স্থাপিত লোহার গেটটি অপসারণ এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।
রাড্ডার এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটিতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের কয়েকদিন পর গতকালই ফিরেছে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সাইনবোর্ডও। দখলমুক্ত ঘোষণা করে এর আগের দিন সরিয়ে ফেলা হয়েছে হামলার পর টানানো ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড। ওই ঘটনায় আরো দুজনসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। নতুন দুজনের কাছ থেকেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির লুট হওয়া আরো কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে ক্লিনিকটিতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দলীয় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও দখলের ঘটনা ঘটে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলার পর তাদের প্রতিষ্ঠানের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গতকাল সকালে ক্লিনিক সংশ্লিষ্টরা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির নিজস্ব সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন।
শাহ আলী থানায় করা রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতারের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দেশি অস্ত্রে সজ্জিত অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ মুখোশধারী ব্যক্তি সেখানে হানা দেয় এবং দুই নিরাপত্তা প্রহরীকে জিম্মি করে ফেলে। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে হামলাকারীরা চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, লুটপাট, প্রাণনাশের হুমকি এবং প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগও আনা হয়েছে। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। লুট হওয়া অনেক মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ছাড়া ঘটনার সময় দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে জমিটি দখলে নিতে বিএনপির দুটি পক্ষ সক্রিয় হয়। এর একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেত্রেী ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জগলুর পাশা পাপেল, যিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা আক্তার তুলির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এই দুই পক্ষ থেকে এই দুই নারী মিষ্টি ও তুলি ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি’-এর ব্যানারে এক হয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছে। পর্দার আড়ালে থেকে দুই নারীর পোষ্য ভূমিদস্যুরা এই দখলবাজিতে জড়িত। এদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়বে।
এ ছাড়া ২০০৫ সাল থেকে বরাদ্দের সূত্রে জমিটির মালিকানা দাবি করে আসছে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় মালিক সমিতি‘। গত ২৯ সেপ্টেম্বর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন করে সমমনা দোকানদার সমবায় মালিক সমিতি। আবেদনে সমিতির তৎকালীন সভানেত্রী ও বর্তমান সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিএনপি নেত্রী ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির স্বাক্ষর রয়েছে। অবশ্য জমিটির মালিকানা নিয়ে আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা ও একটি রিটও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
একাধিক রাজনৈতিক নেতা বলেন, দীর্ঘদিনে এক দিনের জন্যও এ সেবাকেন্দ্রটি বন্ধ হয়নি। এখান থেকেই সরকারের ইপিআই টিকা কার্যক্রমের ৬০ শতাংশ কাভারেজ, পরিবার পরিকল্পনা এবং প্রসূতি নারীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো। এ কারণে গরিব মানুষের কাছে এটি ‘গরিবের হাসপাতাল’ হিসেবে পরিচিতি পায়। এর আগেও এটি দখল করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। এ নিয়ে এখনো একটি মামলা চলমান আছে।
অন্যদিকে বিরোধী দলের জামায়াতের নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং ড. ইউনুস সরকারের উপদেষ্টা এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং বামদলের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা এ ঘটনার নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ ছাড়া দিনভর একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সাংস্কৃতিক সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ-মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। পরিদর্শনকালে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত।
স্থানীয়রা জানান, রাড্ডার জায়গাটি দখলের চেষ্টা দীর্ঘদিনের। ২০০৯ ও ২০১৯ সালে অন্তত তিনটি পৃথক গ্রুপ জায়গাটি দখলের চেষ্টা করে। স্থানীয়দের বাধা ও নিজেদের মধ্যে বিরোধের কারণে তারা কেউ সফল হয়নি। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার পর কাজী টিপু সুলতান জমিটি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি বলে দাবি করে দখলের চেষ্টায় ছিলেন। তবে জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে রেকর্ডেড থাকায় তিনি দখলে নিতে পারেননি।
জানা গেছে, মিরপুর-১-এর ডি ব্লকে ১০ কাঠা জমির ওপর ১৯৭৬ সাল থেকে দরিদ্র, অসহায় নারী ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিও (ইপিআই) এখানে পরিচালিত হয়। জায়গাটি সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনাপত্তিপত্রের শর্তে ১৯৮৪ সালে রাড্ডাকে সেখানে টিকা ও স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই থেকে গত পাঁচ দশক ধরে জমিটি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করে আসছে রাড্ডা। স্থায়ীভাবে জমিটি পাওয়ার জন্য রাড্ডার পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে একটি রিট করা হয়েছিল। সেটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, জায়গাটি গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের। আমরা এখানে ১৯৭৬ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। ১৯৮৪ সালে রাড্ডার সঙ্গে সরকারের একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, যতদিন রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা দেবে, ততদিন এখানে কার্যক্রম চালাতে পারবে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা চালানোর আগে সমমনা দোকানদার সমিতি কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কেউ কখনো যোগাযোগ করেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, এই সেবাকেন্দ্র থেকে এলাকার ধনী-গরিব সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। কেউ যদি জমি পেয়েই থাকে, তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় এসে প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা জমি বুঝে নেবে। কিন্তু রাতের আঁধারে এভাবে একটি সেবাপ্রতিষ্ঠান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বুঝতে হবে তাদের কাগজপত্রে দুর্বলতা রয়েছে। আমরা ছোটবেলা থেকেই জেনে আসছি, এটি সরকারি জায়গা। যখন যে সরকার থাকে, তখন তাদের দলের লোকেরা এ জায়গা দখলে নিতে চায়।
সেবাকেন্দ্রটি থেকে কত টাকার মালামাল লুট হয়েছে জানতে চাইলে নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, আনুমানিক দেড় কোটি টাকার মতো তো হবে। একজন প্রসূতি মায়ের প্রয়োজনীয় সব সেবা এখান থেকে দেওয়া হতো। এখানে ইপিআই টিকা, টিকা প্রদানের সরকারি রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), তিনটি স্টিলের আলমারি, সিসিটিভি ক্যামেরা, চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাব লুট করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি হয়েছে সেটি হলো, হামলাকারীরা শিশুদের টিকা দেওয়ার সব ডকুমেন্ট নিয়ে গেছে। এসব ডকুমেন্টের ভিত্তিতে এই সেন্টারে আসা শিশুদের টিকা দেওয়ার জন্য ফোন করা হতো। এখন এটি করা না গেলে অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হবে। হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ও মোস্তফা জগলুর পাশা পাপেলের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ সময় তিনি বলেন, এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ দেখে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। একটি সুন্দর সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে রাতের অন্ধকারে বুলডোজার এনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে গুঁড়িয়ে দেওয়া কখনোই কাম্য নয়। আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দিই না।
১২ জন কারাগারে
রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে কেরানীগঞ্জের গুদারাঘাট থেকে আরও দুজনকে গ্রেফতার করে শাহ আলী থানা পুলিশ। তারা হলেন, মো. মিন্টু (৩৫) ও মো. মিলন (৪০)। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতার দুজন ঘটনার রাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যান। মিন্টুর কাছ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টিনসহ কিছু মালামাল আর মিলনের কাছ থেকে একটি স্টিলের দরজা জব্দ করে পুলিশ। এর আগের দুদিনে ১০ জনকে গ্রেফতারের পর তাদের তথ্যমতে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভাঙচুরের মামলায় গ্রেফতার ১২ জনকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ধ্বংসস্তূপেই চলছে স্বাস্থ্যসেবা
দুর্বৃত্তদের হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মাঝেই টিকাদান ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কর্মকর্তা ও কর্মীরা। আগের দুই দিন বাইরে থেকে স্বল্প পরিসরে চালানো হলেও গতকাল থেকে ভেতরেও শুরু হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রম। সরেজমিন দেখা গেছে, ভাঙচুর-লুটপাটের ক্ষত না শুকালেও ক্লিনিকটির চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়নি। ভেতরে স্বাস্থ্যকর্মীরা অবস্থান নিয়ে সেবা দিচ্ছেন। বাইরে চেয়ার-টেবিল বসিয়েও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
‘দলীয় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা’
এদিকে রাড্ডার ওই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দলীয় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি। গতকাল সকালে কেন্দ্রটি পরিদর্শনে এসে এ কথা জানান তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









