দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্বৃত্তপনার অভিযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঘটনায় কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্য দলের অপরাধীদের ধরার আগে তিনি নিজ দলের বিতর্কিত নেতাদের লাগাম টানছেন। এত দিন দলের নেতা-কর্মীসহ দেশের মানুষ তারেক রহমানের কোমল রূপ দেখে এলেও গতকাল সবাই দেখল তাঁর কঠোর-কঠিন রূপ। সরকারের এমপি, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ওঠার পর তাঁর এই কঠোরতা।
সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে তিনি স্পষ্ট করতে চাইছেন, অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিজ দলেরও কাউকে দায়মুক্তি দেবেন না। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম কোনো এমপিকে পদত্যাগ করানো হলো। রাজধানীর মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলে অভিযুক্ত সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করিয়ে শুরু হলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই অনুশাসন-যাত্রা।
এর আগে তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ১৯৯৫ সালে। সার কারখানাগুলোর অব্যবস্থাপনা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া, ভুল রফতানি নীতি এবং দেশজুড়ে কৃষক নিহত হওয়ার নৈতিক দায় ও প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ওই বছরের ৪ এপ্রিল শিল্পমন্ত্রী এ এম জহিরুদ্দিন খানকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, সংকট মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থতার কারণেই জহিরুদ্দিনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ায় এমন খবর ফের সামনে এসেছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদলের কমিটি বিলুপ্তির ঘটনা দলীয় অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দলের অন্য নেতা-কর্মী এবং এমপিদেরও সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পদত্যাগ করে মাসুল দিলেন এমপি মিষ্টি
দুর্বৃত্তপনার অভিযোগে এমপি পদ হারাতে হলো বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টিকে। দলীয় প্রধান তারেক রহমানের নির্দেশে পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। গতকাল দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। স্পিকার বরাবর দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী ফেরদৌসী আহমেদ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় জাতীয় সংসদের সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩) পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’ তিনি আরো লেখেন, ‘অতএব বিনীত প্রার্থনা এই যে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে পদত্যাগ কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনার সদয় মর্জি হয়।’
এদিন জাতীয় সংসদ ভবনে ১৫ মিনিট অবস্থান করেন মিষ্টি। সংসদে প্রবেশের সময় তাঁর হাতে একটি ফাইল ছিল। তবে সংসদ থেকে খালি হাতে বের হন তিনি। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে মিষ্টি বলেন, ‘আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, তার সঙ্গে দেখা করেছি। আমি স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছি।’
মায়ের হাতে ভাই, ছেলের হাতে বোনের ‘সাজা’
২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যে তৎকালীন ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত সেই সময়ের সরকারদলীয় এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। বড়ভাই পিন্টুর হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তার স্বামী সায়েদুর রহমান নিউটন ছিলেন ঢাকা সিটির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার। সেই সময় বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০০২ সালের ১০ মে ধানমন্ডি এলাকায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিউটনের মৃত্যুর পর মিষ্টি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন এবং নিউটনের স্ত্রী ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে গতকাল পদত্যাগ করতে হলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে।
সংসদে মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগের পর তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
শূন্য আসন কোন দল পাবে, জানাল ইসি
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগপত্র জমা দেয়ায় জাতীয় সংসদে একটি আসন শূন্য হলো। আসন শূন্য হলে সে আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে নিয়মটা ভিন্ন। তাই মিষ্টির শূন্য আসন কিভাবে বণ্টন হবে তা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য হলে সরাসরি ভোট হয় না। যে দল বা জোটের অনুকূলে আসনটি বরাদ্দ ছিল, সেই দল বা জোটের মনোনীত প্রার্থীর মাধ্যমেই তা পূরণ করা হয়।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য হলে যে দল বা জোটের জন্য আসনটি বরাদ্দ, সেই দল বা জোটই শূন্য আসনটি পাবে। অর্থাৎ, আসনটি যার কোটায়, শূন্য হওয়ার পরও সেই দল বা জোটই আসনটি পাবে। কত দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে- এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আইন অনুযায়ী আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। আর নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের আইন অনুযায়ী।
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুযায়ী, সংসদে অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের মোট আসন সংখ্যার আনুপাতিক হার অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও জোটের অনুকূলে সংরক্ষিত মহিলা আসন বণ্টন করা হয়। এরপর ইসি সচিবালয় রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে। পরবর্তীতে ইসির বৈঠকে অনুমোদনের পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। দল ও জোটগুলো তাদের বরাদ্দকৃত আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। ফলে অনেক সময় প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য আছেন ৫০ জন। যার মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩ জন ও স্বতন্ত্র একজন।
ছাত্রনেত্রী থেকে যেভাবে এমপি হন মিষ্টি
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য। ২০২৬ সালের ৩ মে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নেন। সংসদ সদস্য হিসেবে এটি তাঁর প্রথম মেয়াদ। সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সংসদের দুটি কমিটির সদস্য। সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাকে মনোনীত করে।
১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া মিষ্টির পেশা ব্যবসা। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে। পরে তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত হন। স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন। পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে আসেন তিনি। সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। মিরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনেও পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
মিষ্টি সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮নং ওয়ার্ডের প্রয়াত কমিশনার (বর্তমান পদ কাউন্সিলর) সায়েদুর রহমান নিউটনের সহধর্মিণী এবং ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রয়াত এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের (পিলখানা হত্যাকাণ্ড) মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় পিন্টুকে। ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়। মিষ্টির স্বামী সায়েদুর রহমান নিউটন ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার। ২০০২ সালের ১০ মে প্রকাশ্য দিবালোকে ধানমন্ডির অর্কিড প্লাজার সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিউটনের মৃত্যুর পর তিনি ওই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর মিষ্টির পদত্যাগের সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে আসে। ওইদিন মধ্যরাতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। রাড্ডার ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তাধীন বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এর মধ্যেই বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পদ হারালেন আরেক বিএনপি নেতা
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে পৌর বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক মোল্লার পদ স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার রাতে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব কাজী আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে টুঙ্গিপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক মোল্লার পদের দায়িত্ব আপাতত স্থগিত করা হলো। দলের সুনাম অক্ষুন্ন রাখা ও দলের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি পরিচয়ে সংগঠনের কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব কাজী আবুল খায়ের বলেন, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে টুঙ্গিপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতির পদ স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু কী কারণে পদ স্থগিত করা হয়েছে, তা বলেননি তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান
সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে প্রথম থেকেই নেতা ও এমপিদের সতর্ক করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এমনটাই দলীয় সূত্রের বক্তব্য। এর আগে চীন সফরের আগে আলোচিত এক প্রতিমন্ত্রীকেও সতর্কবার্তা দেয়ার কথা জানা গেছে। সব মিলিয়ে দলীয় পদ, এমপিপদ কিংবা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা উপেক্ষা করা হবে না- এমন বার্তাই সামনে আসছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় তদন্তে যার বিরুদ্ধেই প্রমাণ পাওয়া যাবে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ঢাকা-১৪ সংসদীয় এ আসনে নির্বাচিত এমপি জামায়াত সমর্থিত ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)।
রাড্ডা সেন্টারে হামলার তদন্ত, মিষ্টির পদত্যাগ এবং দলীয় কমিটিগুলোর বিলুপ্তি- সব মিলিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির প্রশ্নটি সামনে এসেছে। দলীয় পরিচয়কে অপরাধের দায় থেকে রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না- এমন অবস্থান কার্যকর হলে তা দলের নেতা, এমপি ও তৃণমূলের কর্মীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
আইনিভাবে কঠোর শাস্তি চান জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাড্ডা ক্লিনিক দখলের ঘটনায় শুধু সাংগঠনিক পদক্ষেপ মোটেই যথেষ্ট নয়। কালপ্রিটদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পোস্টে তিনি লেখেন, রাতের অন্ধকারে রাড্ডা ক্লিনিক দখলের ঘটনায় অবশেষে সরকার ও সরকারি দল বাধ্য হয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। কিন্তু এত বড় অপকর্মের জন্য শুধু সাংগঠনিক পদক্ষেপ মোটেই যথেষ্ট নয়। কালপ্রিটদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দেশবাসী দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি পদক্ষেপ দেখতে চায়। তিনি আরো লেখেন, একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের দায়িত্বও সরকারকে পালন করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের নেতৃত্বাধীন মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত
মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা আগেই গত বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ওই কমিটির আহবায়ক ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সঙ্গে বিলুপ্ত করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিও। দলীয় পর্যায়ে একের পর এক এমন সিদ্ধান্তের ফলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিক জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। যদিও কমিটি বিলুপ্তির আনুষ্ঠানিক কারণ এবং রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনার সঙ্গে এর সরাসরি যোগসূত্র সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাগুলোর সময়কাল রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়াও অনৈতিক কার্যকলাপসহ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন- শাহআলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুভ্র।
বুধবার রাতে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, অনৈতিক কার্যকলাপসহ সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য ঢাকা মহানগর উত্তর-শাহআলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুভ্রকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অপরদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে খুব শিগগিরই ওই ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









