নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় শোকাবহ পরিবেশ। সড়ক দুর্ঘটনায় এতগুলো মৃত্যু দেখে স্থানীয়দের মাঝে শোক বিরাজ করছে। ভোরের আলো ফোটার আগে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান আশপাশের লোকজন। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া যানবাহনের ভেতর থেকে হতাহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন তারা। আহতদের আর্তনাদে ভোরের নিস্তব্ধতা ভাঙে তাদের। হতাহতদের খোঁজে ছোটাছুটিতে তৈরি হয় হৃদয়বিদারক পরিবেশ।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবরের কথা। সেদিন বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রেজুর মোড়ে দুই বাসের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩৭ জন। ঠিক ১২ বছর পর একই তারিখে আবারও বাস দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটল বড়াইগ্রামে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাজেদা পারভীন বলেন, ‘ভোরে খুব জোরে একটি শব্দ শুনতে পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসি। সেখানে গিয়ে দেখি, ভেতরে যাত্রীদের কেউ কেউ কাতরাচ্ছেন। কোনো কোনো যাত্রীর শব্দ নেই। সবাই মিলে তাদের বাস থেকে বের করে বাইরে রাখি। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমরা বাসের ভেতরেই ৯ জনকে মৃত দেখেছি।’
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর নাটোর জেলা সভাপতি গোলাম মোস্তফা জানান, সড়কে এভাবে একের পর এক প্রাণ ঝরে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত এবং মহাসড়কে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরো ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা বড়াইগ্রাম ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার সরকার পাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি তদন্ত করতে কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
নাটোর জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জানান, নিহতদের সড়ক আইনে সহায়তা প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি ঘটনা করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার শরীফুল হক বলেন, সড়কটি সরু। নিহতদের উদ্ধার করে হাইওয়ে ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত করার পর মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন দুটি উদ্ধার করে হাইওয়ে ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে হুইপ সাংবাদিকদের বলেন, সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক শামীম হোসেন বলেন, বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। তিনি জানান, আহতদের উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। সড়কে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- শরীয়পুরের জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবি সাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শালাল মোল্লা (৪৫), কাজির হাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), রাজাশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাসটির চালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামে বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুর জাজিরা এলাকার আরোব আলী ফকিরের ছেলে সামাদ ফকির (৭০) ও ফরিদপুরের বাকুন্দা এলাকার অমুল্য চন্দ্রের ছেলে হিমেস (২৮)।
আমাদের বরগুনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাওয়ার পথে ‘আরপি স্পেশাল নাইস পরিবহন’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাস ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত চালক ও হেল্পারসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বরগুনা থেকে ছেড়ে যাওয়া ওই বাসটিতে বরগুনার বাসটার্মিনাল থেকে ১০ জন এবং বিভিন্ন কাউন্টারসহ ফরিদপুরের ভাঙ্গা কাউন্টার থেকে ওঠা মোট ১৫ জন যাত্রী ছিল।
ভয়াবহ এ সড়ক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত চালক হেল্পারসহ ১৪ জন যাত্রী নিহত হলেও বরগুনা থেকে যাওয়া কোনো যাত্রী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বরগুনা থেকে বাসটিতে যাওয়া দুই যাত্রী গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত ওই দুই যাত্রী হলেন, বরগুনার কর্মসংস্থান ব্যাংকের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত একেএম ফজলুল হক এবং বরগুনার গ্রামীণ ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত মো. জুলফিকার। অপরদিকে, বাসে থাকা বরগুনা থেকে যাওয়া আরেক নারী যাত্রীর এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ জানা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে আরপি স্পেশাল নাইস পরিবহন নামের ওই বাসটি ছেড়ে যায়। এ সময় বরগুনার পৌর বাসটার্মিনাল থেকে ১০ জন যাত্রী ওই বাসে ওঠেন। পরে বরিশাল থেকে ১ জন, সুবিদখালী থেকে ৩ জন এবং ফরিদপুর ভাঙা থেকে আরো ৩ জন যাত্রী বাসে ওঠেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই মাগুরা, ফরিদপুর এবং কুষ্টিয়ায় নামেন।- বরগুনা থেকে ওঠা তিন যাত্রী রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার জন্য বাসে ওঠেন। পরবর্তীতে আরপি স্পেশাল নাইস পরিবহনের ওই বাসটি মঙ্গলবার ভোর রাতে নাটোরের বড়াইগ্রাম এলাকার মহাসড়কে পৌঁছালে বিপরীত দিক থকে আসা পাবনাগামী বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের চালক ও হেল্পারসহ এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত ও কমপক্ষে ৩০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। আহত যাত্রীদের মধ্যে বরগুনা থেকে বাসে ওঠা একেএম ফজলুল হক ও মো. জুলফিকর বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত যাত্রী একেএম ফজলুল হকের স্ত্রী মোসা. লাভলীর সঙ্গে মেবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের বাড়ি রাজশাহী। আমার স্বামী বরগুনা থেকে বাসে রাজশাহীর উদ্দেশে আসছিলেন। বাস দুর্ঘটনায় তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন। চোখের অবস্থাও তেমন ভালো না। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকরা তাকে সিটিস্ক্যান করাতে বলেছেন। পরবর্তীতে বোঝা যাবে কি হয়। বাস দুর্ঘটনায় আহত বরগুনার যাত্রী মো. জুলফিকরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মোবাইল ফোনে বলেন, আমাদের বাসা নাটোরে। বাবা বাস দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি কথা বলতে পারছেন। চিকিৎসকরা তাকে সিটিস্ক্যান করতে বলেছেন।
আরপি স্পেশাল নাইস পরিবহনের বরগুনা কাউন্টারেরর ইনচার্জ সুব্রত বলেন, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বাসটি বরগুনা থেকে ছেড়ে যায়। এরপর একটি বালুর ট্রাকের সঙ্গে ওই বাসটির সংঘর্ষ হয়েছে বলে জেনেছি। এ ঘটনায় বাসের চালক ও হেল্পার নিহত হলেও বরগুনা থেকে যাওয়া কোনো যাত্রীর নিহতের খবর পাইনি। তবে বাসে থাকা বরগুনার দুই যাত্রী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে শুনেছি।
শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, ব্যবসার কাজে রাজশাহীর তাহেরপুরে যাচ্ছিলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী। ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়াসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনে ফেরার কথা ছিল তাদের। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার ভোরে দুর্ঘটনার খবর জাজিরায় পৌঁছালে নিহতদের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত পাঁচজন হলেন জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাট এলাকার ভুসিমাল ব্যবসায়ী সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে হলুদ ব্যবসায়ী শাহিন বেপারী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত পাঁচজনই দীর্ঘদিন ধরে জাজিরার কাজিরহাটসহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করতেন। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তারা রাজশাহীর তাহেরপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সেখান থেকে কৃষিপণ্য কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
নিহত জুয়েল মাদবর ভুসিমাল ব্যবসার পাশাপাশি কাজিরহাটে রড-সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। সামাদ ফকির ভুসিমালের ব্যবসা করতেন। শাহিন বেপারী হলুদ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সালাল মোল্যা ও সোহাগ শিকদারও বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করতেন। একই উপজেলার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী হওয়ায় পাঁচজনের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। ব্যবসার প্রয়োজনে একসঙ্গে রাজশাহীর তাহেরপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন তারা। কিন্তু পণ্য কেনার সেই যাত্রাই তাদের জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও শোকের আবহ বিরাজ করছে। কাজিরহাটের ব্যবসায়ী দিদার সরদার জানিয়েছেন, ব্যবসার সুবাদে নিহত পাঁচজনের সঙ্গেই তার পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। তাদের এমন আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহম্মেদ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন তারা। তবে নাটোরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। মরদেহ জাজিরায় নিয়ে আসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









