গাজীপুর জেলার সদর উপজেলা কোনাবাড়ি এলাকার জরুনে কেয়া গ্রুপের ৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে ২য় দফায় ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে কারখানার প্রধান ফটকে এ সংক্রান্ত নোটিস টানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (পিএস) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। মঙ্গলবার সকালে কাজে যোগ দিতে এসে কারখানার ফটকে শ্রমিকরা এ নোটিস দেখতে পায়।
ছাঁটাই আওতায় থাকা কেয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো হলো - নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস্ লিমিটেড। কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত নোটিসে বলা হয়, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন কারণে গত ৬ জুন থেকে কারখানাগুলো লে-অফে আছে। এরপর কয়েক দফায় ছাাঁটাইয়ের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল থাকায় উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন বিভাগ ও সেকশনের কিছু পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ নোটিসে আরও বলেছে, ভবিষ্যতে কারখানায় পুনরায় কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে শ্রম আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী এই ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমানে যাদের চাকরি বহাল রয়েছে, তারা ছাাঁটাই আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী ছাঁটাইয়ের সুবিধা পাবেন। ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে নোটিসে বলা হয়েছে, শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের সব পাওনা এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।
আমজাদ বলেন, কেয়া গ্রুপের ৪ প্রতিষ্ঠানে ৭৩৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার প্রধান ফটকে শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে চাকরিহারা কর্মীরা কারখানার ফটকে এসে ভিড় জমান। হঠাৎ বিদায়ের নোটিস দেখে তারা হতাশায় মুষড়ে পড়েন। চাকরি হারানোর এমন নোটিস দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন দীর্ঘদিন ধরে এ কারখানায় কাজ করা অনেকেই। প্রায় ১৯ বছর ধরে কারখানাটিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন আবেদা বেগম। ছাঁটাইয়ের তালিকা নিজের নাম দেখে কারখানার তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। কান্নাজড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন, এত বছর চাকরি করে শেষ পর্যন্ত খালি হাতে বিদায় নিতে হচ্ছে। ১৮ বছর এ কারখানায় কাজ করেছেন সুইং সেকশনের অপারেটর ইয়াসমিন বেগম।
চাকরি হারানো এই শ্রমিক বলেন, পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবে —সেটাই বুঝতে পারছি না। পরিবার পরিচালনা নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে অনিশ্চয়তার কথা জানান একই সেকশনের অপারেটর স্বপ্না বেগমও। ১০ বছর ধরে কাজ করা নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বাজারে নতুন চাকরি পাওয়া কঠিন। যদি চাকরি না পান, তবে পরিবার বাঁচাতে অটোরিক্সা চালানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
অন্যদিকে এক নোটিসেই ৭৩৯ জন শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, পাঁচবার ছাঁটাইয়ের পর এক নোটিসে এত বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁদের সংগঠন এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও আইনানুগ ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পরিশোধের জোর দাবি জানাচ্ছে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরেও কেয়া গ্রুপের ৪টি কারখানা থেকে ৬২৭ শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









