গাজী নজরুলের মতোই জামায়াতে ইসলামীর আরেক নেতা মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের তাইজুল ইসলামকে দলের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইউসুফ হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে সোমবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথিত কবিরাজ তাইজুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর শিবচর উপজেলা শাখার আমির সরোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেকেই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আমাদের কাছে আসে। নিলখী ইউনিয়ন উপজেলা থেকে বেশ দূরবর্তী এলাকা। আমরা তাকে ইউনিয়নে জামায়াতের দাওয়াত ও প্রচারণার দায়িত্ব দেই। তিনিও কাজ করে যাচ্ছিলেন। যেহেতু তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাই স্থানীয়রা তাকে ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবেই মনে করতেন। যাই হোক, আমরা এ খবর জানার পরই তাকে আমাদের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, তাইজুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে পানিপড়া ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে কথিত চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসাশিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, চিকিৎসার কথা বলে নারীদের বাড়িতে এনে তাদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করতেন তিনি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার ফেসবুক আইডিতে ওই নারীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করা হয়েছে।
নিলখী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মিন্টু মাতুব্বর বলেন, তাইজুল ইসলামের পূর্বপুরুষরা কুমিল্লার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তাইজুল ইসলাম চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। চিকিৎসার নামে এ ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা এবং তাকে গ্রাম থেকে চলে যেতে বাধ্য করার দাবিও জানান তিনি।
শিবচর উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সরোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেকে জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। নিলখী ইউনিয়ন উপজেলা সদর থেকে দূরে হওয়ায় তাইজুল ইসলামকে দলীয় প্রচার-প্রচারণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব পালনের কারণে স্থানীয়রা তাকে ইউনিয়ন সভাপতি মনে করতেন। অভিযোগের বিষয়টি জানার পর তাকে সাংগঠনিক সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার দুপুরে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে তাইজুল ইসলামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। রাতের মধ্যে ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও গ্রুপে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে দেখা যায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









