# আলোচনায় ১২০০ কেজির ‘কালা মানিক’
প্রতি আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যস্ত সময় পার করছেন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার খামারিরা। উপজেলার দড়ি হাইরমারা এলাকায় আলোচনায় এসেছে ১২০০ কেজি ওজনের গরু ‘কালা মানিক’। গরুটি কিনলে খাসি ফ্রি দেওয়ার ঘোষণার পর নেট দুনিয়ায় ভাইরাল কালা মানিক।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার দড়ি হাইরমারা এলাকায় গ্রিন অ্যাগ্রো ফার্মের যাত্রা শুরু করেন আহসান শিকদার। বর্তমানে প্রায় ২০০টি গরু রয়েছে এই খামারে। তবে সবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ফ্রিজিয়ান জাতের এই ‘কালা মানিক’। কালো রঙের গরুটির কপালে রয়েছে সাদা টিকলি। শান্ত স্বভাবের হওয়ায় যে কেউ সহজেই কাছে যেতে পারে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে ভিড় করছেন খামারে।
জানা গেছে, কালা মানিককে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। এর খাদ্য তালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, সাইলেজ, ভুট্টার গুড়া, খইল এবং ২৫ ধরনের মিশ্র উপাদানে তৈরি বিশেষ খাবার। সকালে দানাদার খাবার, ঘাস ও পানি খাওয়ানো হয়, দুপুরেও দেওয়া হয় দানাদার খাবার ও কাঁচা ঘাস। রাতে খড় ও পানি খাওয়ানো হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন দুই বেলা গোসল করানো হয় গরুটিকে। তিন বছর আগে একটি হাট থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি কেনা হয়। বর্তমানে এর ওজন প্রায় ১২০০ কেজি।
খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, নরসিংদীর মধ্যে এটিই বড় গরু। প্রায় ১০ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট উচ্চতার কালা মানিককে তিন বছর ধরে লালন-পালন করছেন খামারের কর্মচারী কালাম। তিনি বলেন, মানিক আমার চোখের ভাষা বুঝে। তাকে সকাল-দুপুর-রাতে নিজ হাতে খাবার দিই। দুই বেলা গোসল করানো হয়। এতদিন ধরে লালন-পালন করেছি, এখন ভাবতেই কষ্ট লাগে যে- সে চলে যাবে। মাধবদী থেকে গরুটি দেখতে আসা রহিম মিয়া বলেন, মোবাইলে দেখে যত বড় মনে হয়েছিল, সামনে এসে দেখি তার থেকেও বড়। খুব শান্ত স্বভাবের গরু। মাথায় হাত দিতেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল।
গ্রিন এগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যান আহসান শিকদার বলেন, আমরা গরুটির নাম রেখেছি ‘মানিক’। সবাই আদর করে ‘কালা মানিক’ বলে ডাকে। তার ওজন প্রায় ১২০০ কেজি। দাম চাওয়া হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। আর যে ক্রেতা গরুটি কিনবেন তাকে আমরা একটি খাসি সম্পূর্ণ ফ্রি উপহার দেওয়া হবে। ঢাকার কোনো খামারে থাকলে এই গরুর দাম ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা চাওয়া হতো। আমরা তুলনামূলক কম দাম রেখেছি।
তিনি আরো বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত ও প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ছাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রিন এগ্রো ফার্মের গরুগুলো দেখেছি। ‘কালা মানিক’ সত্যিই বড় আকৃতির একটি গরু। এ বছর নরসিংদীর কোরবানির জন্য ৮৫ হাজার ৯০৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। জেলার চাহিদা ৭৮ হাজার ৬৪৫টি। অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার ২৬০টি পশু পার্শ্ববর্তী জেলার চাহিদা পূরণে সরবরাহ করা হবে। খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









