# নাটের গুরু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ
পটুয়াখালীর বাউফলে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের ভেতরেই গরুর খামার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে খোদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচ অ্যান্ড এফপিও) ডা. আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের বদলে গরু লালন-পালন ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের স্টাফ হারবাল সহকারী (গার্ডেনার) মো. শফিকুল ইসলাম সবুজ ও অফিস সহায়ক মো.নাসির খানকে দিয়ে চারটি গরু কিনে এনে সেগুলো পালন করাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ। এছাড়া হাসপাতালের বাবুর্চি মো. আনসার গাজীর কাছে রয়েছে আরও দুটি গরু। সব মিলিয়ে হাসপাতালের ভেতরে গড়ে উঠেছে ‘মিনি গরুর খামার’।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের সরকারি পুকুরের পাশের পাম্প হাউস সংলগ্ন ওই কর্মকর্তার কোর্য়াটারের একটি ভবন দখল করে সেখানে অন্তত ছয়টি গরু পালন করা হচ্ছে। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে গরু বেঁধে রাখায় পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মচারীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি হাসপাতালের ভেতরে গবাদিপশু পালন সম্পূর্ণ অনিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধির পরিপন্থী। হাসপাতাল এমন একটি জায়গা যেখানে সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুমুক্ত পরিবেশ ও রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা। সেখানে গরুর গোবর, মূত্র ও দুর্গন্ধ থেকে জীবাণু ছড়িয়ে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগীর স্বজনও অভিযোগ করে বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যদি গরুর খামারের দুর্গন্ধ সহ্য করতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? এটি হাসপাতালের পরিবেশকে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করছে।’হাসপাতালের ভেতরে গরু পালন সরকারি সম্পদের অপব্যবহার বলে অভিযোগ তুলে তাঁদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরুর গোবর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, এলার্জি, অ্যাজমা এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত বিভিন্ন সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। এছাড়া মাছি-মশার উপদ্রব বেড়ে হাসপাতালের রোগীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন রোগী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য এ ধরনের পরিবেশ আরও বিপজ্জনক বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযুক্ত হারবাল সহকারী শফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, ‘হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুর রউফ স্যারের টাকায় আমরা গরু কিনেছি। কোরবানির পরে আর হাসপাতালে আমরা গরু পালবো না। তবে হাসপাতালের ভেতরে গরু পালন করা অবৈধ, এটি জানি।’ অফিস সহায়ক মোহাম্মদ নাসির খান বলেন, ‘হাসপাতালের ভেতরে গরু পালন করছি। এটি মূলত কোরবানি উপলক্ষে।’ তিনিও স্বীকার করেন, এটি অবৈধ। তবে, ‘আমি একটু চরে এসেছি। আমি ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলব আপনার সঙ্গে’ বলে মোবাইল ফোন কেটে দেন তিনি।
বাবুর্চি আনসার গাজী বলেন, ‘হাসপাতালের ভেতরে আমি দুটি বাছুর পালন করছি। আমি দুই তিন দিনের মধ্যে ওগুলা বেচে ফেলব। হাসপাতালের ভেতরে গরু পালন করা অবৈধ এ বিষয়ে আমি জানি। এটি আমি স্বীকার করছি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি দুর্গম চরে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কাজে আছি। এ বিষয়ে বাউফলে এসে কথা বলব। আপনাকে ফোন করে জানাবো।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









