পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে অম্ল-মধুর সম্পর্কের জেরে এবার দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। কারণ, পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের পূরনো সম্পর্কের শীতলতা কাটিয়ে চালু হচ্ছে নতুন অধ্যায়। যে অধ্যায়ের রেশ ধরে শিগগিরই ঢাকা সফরে আসছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, এমনটিই বলছে ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো। কারণ সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে দেশ দুটির কূটনৈতিক সম্পর্ক যে নীরবে গাঢ় হচ্ছে, সেটা এখন মোটামুটি স্পষ্ট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফর শেষ হওয়ার পর তিন দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা আসতে পারেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই সফরটি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন কৌশলগত মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। সফরে বাণিজ্য, আঞ্চলিক সংযোগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা ও চুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।
সংশ্লিষ্ট মহলের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় থাকতে পারে সম্প্রতি পাকিস্তানি সামরিক প্রতিনিধি দলের পরিদর্শন করা বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (BOF)-এর আধুনিকায়নে পাকিস্তানের প্রযুক্তিগত সহায়তা, দেশে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, এমনকি ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তি খাতে যৌথ সহযোগিতার বিষয়ও। এ ছাড়া সামরিক প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি, তবুও সম্ভাব্য এ সফরকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (বিস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো (ডিফেন্স স্টাডিজ) মোহাম্মদ আশিক রহমান দৈনিক এদিনকে বলেন, ”গত ১৫ বছর ভারতের সাথে প্রকৃতপক্ষে কোনো সাধারণ সম্পর্ক ছিল না। এটি ছিল একটি অসম সম্পর্ক। যার কারণে আমরা আমাদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা যৌক্তিকভাবে নিশ্চিত করতে পারিনি।’’
তিনি বলেন, ”এখন ভারত ও পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের নরমাল কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হচ্ছে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তান হয়তো একটু বেশি আগ্রহী। তবে বাংলাদেশ সবকিছু ব্যালেন্স করে চলছে এবং এমন হওয়াটাই যৌক্তিক।’’
বিস মূলত দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা কৌশল ও কৌশলগত গবেষণা নিয়ে কাজ করে। তবে আলোচনা যাই থাকুক, বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক যে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক স্থিতিশীল ও আস্থায় গেছে তা মোটামুটি স্পষ্ট। কারণ সম্প্রতি (৮ মে) বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ১০ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি হয়েছে। এ ঘটনায় দিল্লিতে রীতিমতো তোলপাড় পড়ে গেছে। বলা হচ্ছে, এই চুক্তি বরদাশত করতে পারেনি দিল্লি। সেজন্যই ভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ভারতের বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে বাংলাদেশে।
যদিও বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি যে ১০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটি মূলত মাদকদ্রব্য পাচার ও অপব্যবহার প্রতিরোধে সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক।
চলতি ৮ মে ঢাকায় স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, নিষিদ্ধ মাদক ও সাইকোট্রপিক পদার্থের অবৈধ পাচার, অপব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ পাচার প্রতিরোধে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রেজা নকভী দু’দেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিটি ১০ বছর কার্যকর থাকবে উল্লেখ করা হলেও উভয় পক্ষের সম্মতিতে পরে নবায়ন করা যাবে বলে নিশ্চিত করা হয়।
সঙ্গত কারণেই এই চুক্তিকে অনেক বিশ্লেষক দুই দেশের সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য, কূটনীতি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে যোগাযোগ বাড়ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন ধাপ, দক্ষিণ এশিয়ায় মাদক পাচার রোধে সমন্বিত উদ্যোগ ও দীর্ঘদিন পর দুই দেশের মধ্যে কার্যকর নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পাকিস্তান বাংলাদেশে তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। তারা (পাকিস্তান) নিয়মিতভাবে সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১০ মে বিকেল ৩টায় গুলশানে পাকিস্তান হাইকমিশনে (বাড়ি নং NE-C-2, সড়ক নং ৭১, গুলশান-২) পাকিস্তানের “মারকা-ই-হক’’ (সত্যের যুদ্ধ)–এর প্রথমবার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যেখানে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঢাকায় বসবাসরত পাকিস্তানি নাগরিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সম্প্রতি ১১ মে ঢাকার র্যাডিসন হোটেলে অনুষ্ঠিত “পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডর’’-এর আওতায় “পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপো’’ শীর্ষক আরেকটি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে পাকিস্তান বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি বৃত্তির ঘোষণা দেয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেন। যদিও শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে পাকিস্তান বাংলাদেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
একই দিনে অর্থাৎ ১০ মে, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল, এয়ার ভাইস মার্শাল আওরঙ্গজেব আহমদের নেতৃত্বে, পাঁচ দিনের সফরে ঢাকায় আসে। যদিও তাদের এই সফর সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। পরে কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে এয়ার ভাইস মার্শাল আহমদ এবং তার প্রতিনিধিদলের বগুড়া, লালমনিরহাট ও আরো কয়েকটি বিমান ঘাঁটি পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, তারা বাংলাদেশি বিমানঘাঁটিগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন ব্যবস্থা স্থাপনে কারিগরি সহায়তা দিতে এসেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ যেন চীনের চেংদু জে-১০ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিবর্তে পাকিস্তানের বহুমুখী জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা বিবেচনা করে, সে বিষয়টিও তারা মূল্যায়ন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো একক দেশের ওপর শতভাগ নির্ভরশীলতা সেই দেশের জন্য কখনোই মঙ্গলজনক হতে পারে না। সে হিসেবে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক এই চুক্তি সময়ের দাবি। প্রয়োজন অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সাথে প্রয়োজনীয় চুক্তি করে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করা। কারণ, আমেরিকা যদি জাপানে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করার পর তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করতে পারে সেখানে বাংলাদেশ কেন পারবে না?
অবশ্য ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত এক সময় যে ভারতের বিকল্প চিন্তা করা ছিল কিছুটা দুরূহ এখন সেই চিন্তায় কিছুটা হলেও নেমে এসেছে শীতলতা। এর আগে দীর্ঘদিন ভারতের মুসৌরিই ছিল বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের প্রধান গন্তব্য। তবে রাজনৈতিক পালাবদল, কূটনৈতিক টানাপড়েন, চুক্তির মেয়াদ শেষ ও ভিসা জটিলতায় সেই কার্যক্রম এখন বন্ধ। তাই প্রথমবারের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে পাকিস্তানে।
নেতৃত্ব ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় সরকারের ১২ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বর্তমানে পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে (সিএসএ) প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। গত ৪ মে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ চলবে ২১ মে পর্যন্ত। সফরে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন অতিরিক্ত সচিব এবং বাকি ১১ জন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও প্রশিক্ষণের সব ব্যয় বহন করছে পাকিস্তান সরকার। বাংলাদেশ সরকারের এ সফরে কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
এর আগে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে গত এক দশকে প্রধান গন্তব্য ছিল ভারত। বিশেষ করে উত্তরাখন্ড প্রদেশের মুসৌরিতে অবস্থিত লাল বাহাদুর শাস্ত্রী রাষ্ট্রীয় প্রশাসন একাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণে যেতেন মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৪ সালে দিল্লিভিত্তিক ন্যাশনাল সেন্টার ফর গুড গভর্ন্যান্সের (এনসিজিজি) সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা স্মারক সইয়ের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরে ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় চুক্তি হয়। তৃতীয় দফায় ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকায় দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি সই হয়। সবশেষ এই চুক্তির মেয়াদ ছিল এক বছর। ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ঢাকা–দিল্লি কূটনৈতিক টানাপড়েনের কারণে এরপর বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়নি।
নেতৃত্ব ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় সরকারের ১২ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বর্তমানে পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে (সিএসএ) প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। গত ৪ মে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ চলবে ২১ মে পর্যন্ত। সফরে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন অতিরিক্ত সচিব এবং বাকি ১১ জন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, লাহোরের সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তান সরকার বিভিন্ন সময় চিঠি দিয়ে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাতে সাড়া দেওয়া হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব, বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি পাকিস্তান সফরে গেলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তখন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে পাঠানোর প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়।
এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমন্ত্রণপত্র পাঠায়। মূলত সেই আমন্ত্রণের ভিত্তিতেই এবার কর্মকর্তাদের পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, প্রশাসনিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাকিস্তানে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের প্রতিনিধি দলের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও প্রশিক্ষণ অনুবিভাগের (সিপিটি) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তানের আমন্ত্রণে কর্মকর্তাদের সেখানে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো দেশটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি হয়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবেই পাকিস্তানের সঙ্গে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতায় পাকিস্তানে কর্মকর্তাদের পাঠানোর উদ্যোগ কূটনৈতিক বার্তা বহন করে। সরকারি কর্মকর্তাদের একক কোনো দেশে না পাঠিয়ে কয়েকটি দেশে পাঠানো উচিত বলে মত দেন তাঁরা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়নি। সবশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি দল ভারতে গিয়েছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









