জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অটোরিকশা সেবায় অনিয়ম, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে চলাচলকারী অটোরিকশার একটি অংশ শিক্ষার্থীদের তুলতে অনাগ্রহ দেখিয়ে বহিরাগত যাত্রীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এছাড়া নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক অটোরিকশা না থাকায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
ইতিহাস বিভাগের ৫১তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে চলাচলকারী কিছু অটোরিকশা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় গন্তব্যে যেতে অনাগ্রহ দেখায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হলের সামনে থেকে দুটি খালি অটোরিকশা প্রান্তিকের দিকে চলে গেলেও যাত্রী নিতে থামেনি। পরে একটি অটোরিকশাকে থামিয়ে শহীদ মিনারে যাওয়ার কথা বললে চালক সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রান্তিকে যাওয়ার কথা বলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘‘ডেইরি গেইট, প্রান্তিক ও ইসলামনগর এলাকায় অটোরিকশা সহজলভ্য হলেও মেয়েদের হলসংলগ্ন এলাকায় প্রয়োজনের সময় যানবাহন পাওয়া যায় না। আবার এসব রুটে পর্যাপ্ত কার্টও পাওয়া যায় না। একই সঙ্গে প্যাডেল রিকশার সংখ্যাও কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে।’’ এছাড়া আগের তুলনায় বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তানভীর একটি নির্দিষ্ট রিকশাচালকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের তুলতে অনীহার অভিযোগ তুলে ধরে জানান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনে খালি থাকা একটি রিকশাকে ডাকলেও চালক তাকে নিতে রাজি হননি। পরে ওই চালককে গেরুয়া এলাকা থেকে যাত্রী তুলতে দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি। এধরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে।
জাকসুর পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক তানভীর রহমান বলেন, “ক্লাস ও পরীক্ষা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় পরিবহন সেবা পাচ্ছে না। বেশি ভাড়ার আশায় কিছু চালক শিক্ষার্থীদের এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।”
শিক্ষার্থীদের মতে, ক্যাম্পাসে পরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ থাকলেও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে চালকদের একটি অংশ নিয়মনীতি না মেনেই রিকশা চালাচ্ছেন। ফলে হলমুখী শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
এ ব্যাপারে জাকসুর পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক তানভীর রহমান বলেন, “অটোরিকশা ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়মিত চালকদের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচবার বৈঠকে চালকদের সতর্ক করা হয়েছে। অধিকাংশ চালক নিয়ম মেনে সেবা দিলেও কিছু চালক মাঝে মাঝে নিয়ম ভঙ্গ করেন। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এমনকি কয়েকটি অটোরিকশা আটকও রাখা হয়েছে। জাকসু ও প্রশাসন বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসু যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সকল রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক অটোরিকশা নিশ্চিত করে, ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করে এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে সেবা দিতে অটোরিকশা চালকদের একটি সুসংগঠিত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।’’
তিনি জানান, ক্যাম্পাসের পরিবহন ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য একটি কমিটি রয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









