বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে এক শতাংশের বেশি পতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী ডলারের প্রভাবে মূল্যবান এই ধাতুর দাম নিম্নমুখী রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশেও স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯৫৬ দশমিক ৯২ ডলারে নেমে এসেছে।
চলতি মাসে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম কমেছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা টানা চতুর্থ মাসিক পতন। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৬৯ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের পর এটি স্বর্ণের প্রথম ত্রৈমাসিক দরপতন এবং ২০১৩ সালের জুন প্রান্তিকের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক মূল্যহ্রাস।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলার—এই তিনটি কারণ বর্তমানে স্বর্ণের দামের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও স্বর্ণকে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এর আকর্ষণ কমে যায়।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তিন দফা সুদের হার বাড়াতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন বিনিয়োগকারীরা। সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৬৪ শতাংশ।
এ দিকে, ফেডের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধারণা পেতে বাজারের নজর রয়েছে জুন মাসের এডিপি কর্মসংস্থান ও অকৃষি কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্যের দিকে।
অন্যদিকে, মার্কিন ডলার টানা দ্বিতীয় মাসের মতো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফলে অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের জন্য ডলারভিত্তিক স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনা নিয়েও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। যদিও ইরান জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো বৈঠক এখনো নির্ধারিত হয়নি। একই সময়ে তেলের দামও ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতনের পথে রয়েছে।
এডওয়ার্ড মেয়ারের পূর্বাভাস, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দর কমলে সাধারণত দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়। ফলে শিগগিরই নতুন করে দাম কমানোর ঘোষণা আসতে পারে।
এর আগে গত ২৯ জুন বাজুস সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে। সে সময় প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়।
বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৩ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৫৭ দশমিক ২১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ২০৮ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে এই তিন ধাতুর দামও নিম্নমুখী রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









