শরীয়তপুরের জাজিরায় হামলার একটি মামলার আসামি ইমরান মুন্সিকে মামলার বাদী নিজেই আটক করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদের কাছে সোপর্দ করার পরও তিনি পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলার বাদী।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে জাজিরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী সাংবাদিক মিলন মিয়া বিষয়টি মঙ্গলবার (৩০) জুন গণমাধ্যমকে জানান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ মার্চ জাজিরা পৌরসভার খোশাল সিকদার কান্দি এলাকায় স্থানীয় সহর আলী মাদবরের বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। ওই সময় সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মিলন মিয়া।
পরদিন ৩ মার্চ দুপুরে জাজিরা পুরাতন বাজার এলাকায় ঈদের কেনাকাটা করতে গেলে মাদকবিষয়ক সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় ইলিয়াস মাদবরের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, হামলার সময় মনির মাদবর চাপাতি দিয়ে তার মাথায় কোপ দেন এবং সহর আলী মাদবর লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তার বাম হাতের কনুই ভেঙে যায়। এ ছাড়া অন্য আসামিরাও তাকে মারধর ও হত্যার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় জাজিরা থানায় দায়ের করা মামলায় ইমরান মুন্সি ১২ নম্বর আসামি।
মামলার বাদী মিলন মিয়া জানান, সোমবার সকালে জাজিরা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ইমরান মুন্সিকে দেখতে পেয়ে তিনি তাকে আটক করেন এবং মামলার কাগজপত্রসহ জাজিরা থানার ওসি মো. সালেহ আহাম্মদের কাছে সোপর্দ করেন।
তার দাবি, ওই সময় ওসি বলেন, "আমি আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি।" পরে ইমরানকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি কক্ষে রাখা হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে গেলে সেই সুযোগে ইমরান পুলিশি হেফাজত থেকে কৌশলে পালিয়ে যান।
মিলন মিয়ার অভিযোগ, একজন পলাতক মামলার আসামিকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পরও যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। এটি দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতির পরিচয়। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়দের দাবি, ইমরান মুন্সির বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, "মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তিনি মামলার আসামি কি না বা জামিনে আছেন কি না।"
তবে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পর একজন ব্যক্তি কীভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা মেলেনি। ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের দায়িত্বশীলতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









