দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিলামের মাধ্যমে আরও ১২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে আটটি ব্যাংকের কাছ থেকে এই ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি জানান, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এ পর্যন্ত মোট ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে।
তার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট ৫৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় ডলার কেনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ডলার না কিনলে টাকার মান আরও কমে যেতে পারে, এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশলের অংশ হিসেবেই বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ডলার কেনার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দিন শেষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্ধারিত বিপিএম৬ পদ্ধতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চিতি দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল–এর পরামর্শ অনুসারে গত বছরের মে মাসে ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা হয়। পরে গভর্নর দাবি করেন, এটি আইএমএফের চাপে নয়; বরং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছর ১৩ জুলাই প্রথমবারের মতো নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে। সেদিন ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনা হয়েছিল। ওই সময় মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কেনার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ডলারের দর কিছুটা বাড়ানো। তার ভাষ্য ছিল, ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানিকারকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নির্ধারিত দরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে গত বছর থেকেই নিয়মিত নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









