পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বাজারে। যোগান ভালো থাকলেও ক্রেতা সমাগম বেশ কম। দাম বেড়েছে মাছ, মাংস ও মসলার। সবজির বাজারে মিলবে খানিকটা স্বস্তি।
শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
মানভেদে প্রতি হালি লেবুর দাম হাকা হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকা। মানভেদে শসা, টমেটো মিলছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। ১২০ টাকার নিচেই মিলছে এক কেজি কাঁচামরিচ। আর গাজরের জন্য দিতে হবে ৫০ টাকা।
রমজান মাসজুড়ে শতকের ঘর ছাড়িয়ে যাওয়া পটল, করলা, বরবটিসহ বেশিরভাগ সবজির দাম নেমে এসেছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। বেগুন কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। রাজধানীর এক বিক্রেতা বোরহান বলেন, “আজ রাতেই গ্রামে যাবো। অনেক পণ্য পড়ে আছে, তাই কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছি।”
স্বস্তি দিচ্ছে পেঁয়াজের বাজার। মানভেদে প্রতি কেজির জন্য গুণতে হবে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। আলু মিলবে প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২০ টাকা। আমদানি করা এক কেজি রসুন কিনতে দিতে হবে ২২০ টাকা। আর ১৮০ টাকা কেজিতে অপরিবর্তিত আছে আদা।
বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে মসলার বাজারে। কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এলাচের। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কম ছিল।
এছাড়া দারুচিনি ৫৮০-৬০০ টাকা, জয়ত্রি ৪ হাজার টাকা, জায়ফল ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লবঙ্গের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা কেজি। এছাড়া জিরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, ধনিয়া ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা, তেজপাতাও ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে শুকনো ফলের বাজারেও দাম বেড়েছে। কিশমিশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, আলুবোখারা ১ হাজার ৪০০ টাকা, কাজুবাদাম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, কাঠবাদাম ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং পেস্তা বাদাম ৪ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে ঈদ উপলক্ষে চাহিদা বাড়ায় মাংস ও মাছের দামও বেড়েছে। বর্তমানে গরুর মাংস ৮৫০ টাকা কেজি, যা কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, যা কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি।
ব্যবসায়ীদের যুক্তি, কোরবানির প্রস্তুতি রোজার ঈদের আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়। তাই আপাতত দামে বড় পরিবর্তনের আশা নেই।
মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি ২১০ থেকে ২২০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানে একটা মুরগি কিনতেই ৫শ' টাকার বেশি খরচ। দেশি মুরগির কেজি ৭শ' টাকা। তবে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে।
মাছের বাজারেও দাম বেড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী ঈদের আগে ছুটি নিয়েছেন। বেশ কিছু দোকান বন্ধ। তবুও ইলিশ, রূপচাঁদা আর চিংড়ির চাহিদা কম নয়। বরং বারবিকিউয়ের জন্য কদর বেড়েছে কোরাল মাছের। সঙ্গে দামও কেজিতে অন্তত ১০০ টাকা বেশি। পোয়া মাছ ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাস ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গলদা চিংড়ি ছোট ১ হাজার টাকা এবং বড়টা ১ হাজার ২০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা ও পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি থাকায় খোলা তেলের দাম বেড়ে ২১৫ থেকে ২২০ টাকা লিটারে উঠেছে। চিনির দামও কিছুটা বেড়েছে। বিদেশি চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা এবং দেশি চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ সেমাইয়ের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। ২০০ গ্রাম প্যাকেট সেমাই ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা এবং খোলা লাচ্ছা সেমাই ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সুগন্ধি চালের দামও বেড়েছে। চিনিগুঁড়া চালের প্যাকেট ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা এবং খোলা চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি।
ঈদের ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যেই বাজার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে এমনটা বলা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









