ইরান যুদ্ধের কারণে তীব্র জ্বালানি সংকটসহ নানা ইস্যুতে বিপর্যস্ত দেশের অর্থনীতি। সাধারণ মানুষ কোনোভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় বাজারে সব পণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে নতুন করে চাল, চিনি, ডিম, পেঁয়াজের মতো কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। এখনও সংকট আছে বোতলজাত ভোজ্যতেলের। তবে আগে চড়া থাকায় সোনালি মুরগি ও বেশ কিছু মৌসুমি সবজির দাম এখন কমেছে। দামের এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বিপাকে পড়েছে সীমিত আয়ের মানুষ।
বিক্রেতাদের দাবি, মাসখানেক ধরে ট্রাক ভাড়া বাড়তি। এ কারণে কিছু পণ্যের দর বেড়েছে। তবে ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে নতুন করে পরিবহন ভাড়া নির্ধারিত হলে কমবেশি সব পণ্যের দর বাড়তে পারে। শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার ও তেজকুনিপাড়া এলাকা ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত এক সপ্তাহ আগে সোনালি মুরগি যেখানে ৪০০ থেকে ৪১০ টাকা ছিল, তা আজ কমে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়। পোল্ট্রি মুরগিও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে আজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। দেশি মুরগির দামও ৬০ থেকে ৭০ টাকা কমে আজ বিক্রি হচ্ছে ৭২০ টাকা দরে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে আজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা। এদিকে গরুর মাংস আজও বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে।
মুরগির সঙ্গে সবজির বাজারও নিম্নমুখী দেখা গেছে। এদিন করলা, পটল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি সবজির দামই ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে।
এদিন মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি লক্ষ্য করা যায়। ২২০ টাকার নিচে বাজারে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল পাঙ্গাশ মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে তা বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকা, যা গত তিন দিন আগেও বিক্রি হতো ৩০০ টাকা দরে। আর দুই কেজির চেয়ে বেশি ওজনের রুই মাছ ৩০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়। এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল, টেংরাসহ সব মাছই কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে আজ বিক্রি হচ্ছে।
সম্প্রতি সরকার ডিজেলের লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে না বাড়ালেও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ইতোমধ্যে ভাড়া দুই থেকে তিন হাজার টাকা বাড়িয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে পণ্যের বাজারে। এক সপ্তাহে মাঝারি চালের (বিআর-২৮ ও পাইজাম) কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। এ মানের চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে। সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৫৩ থেকে ৬০ টাকা। তবে মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) ও সরু চালের (মিনিকেট) দাম অপরিবর্তিত আছে। মোটা চালের কেজি ৫০ থেকে ৫৩ এবং মানভেদে সরু চাল ৭৩ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে মোটা ও মাঝারি চালের দর ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
তবে দামের বড় লাফ দেখা গেছে পোলাওর চালে। ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত পোলাওর চালের কেজিতে ১৫ টাকার মতো বেড়ে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে খোলা পোলাওর চাল বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে খরচ হবে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা। এ ছাড়া তেলাপিয়ার কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা।
খিলগাঁও তালতলা বাজারে চাল বিক্রেতা এনামুল বলেন, আমনের নতুন চাল বাজারে আছে, ভারত থেকে চাল আমদানিও হচ্ছে। অন্যদিকে, বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ ছিল না। শুধু তেলের কারণে যে বাড়তি খরচ হচ্ছে এজন্য চালের দাম এক দুই টাকা বেশি পড়ছে।
তিনি জানান, জ্বালানির তেলের সংকটের অজুহাতে ট্রাকমালিকরা মাসখানেক আগে ভাড়া দুই-আড়াই হাজার টাকার মতো বাড়িয়েছেন। এখন পাঁচ হাজার পর্যন্ত বাড়তি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









