পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের এক মহিমান্বিত বার্তা নিয়ে আসে। ঈদুল আজহা আমাদের শেখায়, সংকীর্ণতা নয়, ভোগবাদ নয়; বরং পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবতার সেবাই হোক জীবনের মূল আদর্শ। ঈদুল আজহার এই আনন্দময় মুহূর্তে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
ইবি খেলাফত ছাত্র মসলিসের সভাপতি জুনায়েদ খান বলেন, ‘‘দেশের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন ও কুরবানী পালন করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও দুর্ভোগমুক্ত করতে সড়ক, মহাসড়ক, রেল ও নৌপথে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই।
বাড়তি ভাড়ার আর্থিক সংকট এড়াতে কেউ যেন অনিরাপদ যাতায়াত বা যানবাহনে ঝুঁকে না পরে, সে জন্য সরকারকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড ও জেলা উপজেলায় বাড়তি ভাড়া বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেন ২৫মে’র ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মত আর কারো প্রাণ বিসর্জন দিতে না হয়।
সরকার ও সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে ও সকলের মুখে হাসি ফুটাতে পিলখানা, শাপলা, মোদি বিরোধী আন্দোলন ও ২৪-এর জুলাই অভ্যত্থানে শহীদ হওয়া সকল পরিবারসহ অসহায়, দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও কুরবানীর গোশতের উপহার পাঠিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানাই।’’
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, "কুরবানীর মূল শিক্ষাই হলো নিজের অহংকার, স্বার্থপরতা ও পঙ্কিলতাকে বিসর্জন দিয়ে ত্যাগের মহিমায় জীবনকে আলোকিত করা। কুরবানীর এই মহান ত্যাগ আমাদের ছাত্রসমাজ তথা পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ইনসাফ ও ত্যাগের এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করবে।"
ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের সভাপতি নূর আলম সিদ্দীক বলেন, ‘‘ত্যাগ, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মহান শিক্ষা নিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মানবিক, বৈষম্যহীন ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের অধিকার, গণতন্ত্র, মুক্তচিন্তা ও সাম্যের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আশা করি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর, নিরাপদ ও জ্ঞানভিত্তিক ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। সবার জীবনে ঈদের আনন্দ বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। ইদ মোবারক।’’
শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, ‘‘যেহেতু ঈদের ছুটিতে আবাসিক হলসমূহ বন্ধ থাকবে, তাই প্রশাসনের প্রতি আহ্বান থাকবে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করার। একইসঙ্গে ছুটির পরবর্তী সময়েও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কার্যকর ও সচেতন ভূমিকা প্রত্যাশা করছি, যেন সাজিদ হত্যা ও রুনা ম্যাম হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের যথাযথ বিচার দাবি করছি। পাশাপাশি নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’’
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন ঘটনাবলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘‘ইতোমধ্যে অনেক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের আরও কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে আমরা মনে করি। এছাড়াও দেশে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বেড়ে গেছে। এ দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা হ্রাস পাবে বলে মনে করি। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় যদি এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয় তাহলে এটি কমানে সম্ভব। আমি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’’
তিনি বলেন, ‘‘ত্যাগ, সাম্য ও মানবিকতার শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গঠনে একসাথে কাজ করতে চাই। ছুটিতে সবাই নিরাপদে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান এবং নতুন উদ্যমে ক্যাম্পাসে ফিরে আসুন— এই প্রত্যাশা রইলো।’’
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ‘‘আজ আমাদের সমাজে অসংখ্য মানুষ কষ্টে দিন পার করছে। তাই ঈদের আনন্দ যেন কেবল নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে বরং অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখেও হাসি ফোটানোর মাধ্যম হোক এই কুরবানি। ত্যাগের এই মহান শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখুক—এই প্রত্যাশা করি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ত্যাগ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের এই শিক্ষা ধারণ করে আমরা যেন একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখতে পারি—এই হোক ঈদুল আজহার অঙ্গীকার।’’
ইবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ‘‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম ও আত্মনির্ভরতার আদর্শ আমাদের প্রেরণার উৎস। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও শিক্ষা বিস্তারে অবদান জাতি আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের আধুনিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় আমাদের এগিয়ে চলার শক্তি জোগায়।’’
তিনি বলেন, ‘‘ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, নৈতিক মূল্যবোধ ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশকে সমুন্নত রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা বিশ্বাস করি, একটি নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব ও সহাবস্থানের ক্যাম্পাসই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের ভিত্তি। পবিত্র ঈদের ছুটিতে সবাই নিরাপদে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান এবং নতুন উদ্যমে ক্যাম্পাসে ফিরে আসুন— এই প্রত্যাশা রইলো। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের ত্যাগ ও ইবাদত কবুল করুন।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









