যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, “বিগত ১৭ বছরে দেশের ক্রীড়াখাতকে ধ্বংস করা হয়েছে। দেশের খেলাধুলার আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমরা দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন বিপ্লব সৃষ্টি করতে চাই।”
তিনি বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের করে আনার জন্য সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে আমরা নতুন কুঁড়ি আয়োজন করেছি। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে নানা ধরণের ক্রীড়া ইভেন্ট যুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে ঝিনাইদহের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে জেলা পরিষদ প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন হিসেবে নয়, পেশা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
তিনি বলেন, আমরা খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ জাতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে চাই। আমাদের নীতি-নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ এই খেলাধুলার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে চাই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দল-মত–নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আমিনুল হক বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশের ১০টি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর একটি ঝিনাইদহে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জেলার বর্তমান স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ গ্যালারিসহ আধুনিক স্টেডিয়ামে রূপ দেওয়া হবে। এছাড়া দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির লক্ষ্যেও কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের ৬৪টি জেলায় আন্তর্জাতিক সুবিধাসম্পন্ন ইনডোর স্টেডিয়ামসহ স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছরে ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুজ্জামান মনা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মজিদ। এসময় জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান উপস্থিত ছিলেন।
ফাইনাল খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কুষ্টিয়ার ওয়ান্ডার্স ক্লাব ও লাইফ ওয়ে ক্লাব, ঝিনাইদহ। খেলা উপভোগ করতে কানাই কানাই পরিপূর্ণ হয়ে যায় স্টেডিয়ামের গ্যালারি। দর্শকদের উন্মাদনা আর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম। গ্যালারিতে জায়গা না পেয়ে মাঠে বসেই খেলা দেখতে হাজির স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে চলা মাসব্যাপী এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। খেলায় লাইফ ওয়ে ক্লাব, ঝিনাইদহ ৩-০ গোলে কুষ্টিয়ার ওয়ান্ডার্স ক্লাবকে পরাজিত করে শিরোপা লাভ করে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









