সম্প্রতি স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা লামিন ইয়ামাল কিনলেন প্রাসাদসম এক বাড়ি। যে বাড়িতে একসময় থাকতেন বার্সা কিংবদন্তি খেলোয়াড় জেরার্ড পিকে ও তার সাবেক প্রেমিকা পপ গায়িকা শাকিরা।
স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক স্পোর্তে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কাতালোনিয়ার এসপ্লুগেস দে লোব্রেগাত এলাকায় অবস্থিত ইয়ামালের এই বাড়ির দাম ১ কোটি ৫ লাখ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।
পিকে-শাকিরার সম্পর্কের শুরু পর ২০১২ সালে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। তখন থেকে ২০২২ সালে বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত তারা সেই বাড়িতেই থাকতেন। দুজন আলাদা হয়ে যাওয়ার পরপরই বাড়িটি বিক্রির চেষ্টা করে আসছিলেন।
স্পেনের আরেক সংবাদমাধ্যম এল পাইসের খবরে বলা হয়েছে, পিকে-শাকিরার পুরোনো আর ইয়ামালের বর্তমান ঠিকানা হতে চলা ভূসম্পত্তিটি ৩৮০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। বিশাল এই জায়গায় রয়েছে তিনটি ভবন—একটি মূল বাড়ি এবং দুটি আলাদা বাসভবন।
প্রথমে তিনটি ভবন মিলিয়ে এই সম্পত্তির দাম ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো (প্রায় ২০০ কোটি টাকা), যা ২০২২ সালে বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। পরে একটি ছোট ভবন বিক্রি হয়ে যাওয়ায় পুরো দাম থেকে ৩৫ লাখ ইউরো (প্রায় ৫০ কোটি টাকা) কমানো হয়। ফলে বর্তমানে এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ইউরো (প্রায় ১৫০ কোটি টাকা)।
এই দুই ভবনে শোবার ঘর ছয়টি ও বাথরুম পাঁচটি। এই বাড়ির ভেতরে রয়েছে বড় বড় জানালা, একটি ঝর্ণাসহ আউটডোর সুইমিং পুল, একটি ইনডোর সুইমিং পুল, ব্যক্তিগত জিম, প্যাডেল কোর্ট, সিনেমা রুম, ওয়াইন সেলার, একটি রেকর্ডিং স্টুডিও এবং একটি ব্যক্তিগত ফুটবল মাঠ।
শাকিরার রেখে যাওয়া সাজসজ্জার বাড়িটি আগের মতোই সাজিয়ে-গুছিয়ে রেখেছেন ইয়ামাল। তবে ব্যক্তিগত ট্রফি, পুরস্কার ও স্মারকগুলোও জায়গা পেয়েছে তার এই বাড়িতে। অবশ্য নিজের মতো করে কিছু আসবাবপত্র কিনে ঘরগুলো সাজিয়েছেন তিনি।
এই কমপ্লেক্সে চারটি আলাদা বাড়ি আছে। একটি পিকের বাবা-মায়ের, দ্বিতীয়টি শাকিরার বাবা-মায়ের এবং তৃতীয়টি মূল বাড়ি তরুণ বার্সা খেলোয়াড়ের। চতুর্থ বাড়ির সংস্কার কাজ এখনও শেষ হয়নি। তবে এর উঁচু স্থান থেকে বার্সেলোনা ও ভূমধ্যসাগরের মন্ত্রমুগ্ধ দৃশ্য দেখা যায়।
এই বাড়ি কেনার জন্য তিন মাস ধরে আলোচনা চলছিল। ইয়ামালের আইনজীবীরা তার অনুপস্থিতিতে সব প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করেন। এই সম্পত্তিটি একসময় শাকিরা ও পিকেকে নিয়ে অসংখ্য পারিবারিক ও গণমাধ্যমের মুহূর্তের সাক্ষী ছিল। এখন এটি সাফল্য ও স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলা একজন ফুটবলারের নতুন আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। ১৮ বছর বয়সেই বাড়ি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেন ইয়ামাল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









