প্রতিবছরের মতো এবারও ২১ জুন ‘আন্তর্জাতিক বাবা দিবস’ বিশ্বজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে। সন্তানের জীবনে বাবার অবদান, ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে স্মরণ করতেই দিবসটি উদযাপন করা হয়। একজন বাবা কেবল পরিবারের উপার্জনকারী নন, তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, সাহসের উৎস, জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা এবং কঠিন সময়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়।
এই দিবসকে কেন্দ্র করে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাবাকে নিয়ে নিজেদের অনুভূতি, ভালোবাসা ও স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন। তাদের ভাষায়, বাবারা হয়তো ভালোবাসা খুব বেশি প্রকাশ করেন না, কিন্তু প্রতিটি স্বপ্ন পূরণের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান থাকে তাদেরই।
বাবাকে কে নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ফুয়াদ হাসান বলেন, ‘‘আমার বাবা সবসময় আমাকে শিখিয়েছেন—জীবনে যত বড় হও না কেন, মানুষ হিসেবে সৎ থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পরিবারের জন্য তিনি সারাজীবন নিরলস পরিশ্রম করেছেন। নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাগুলোকে কখনো গুরুত্ব দেননি, কিন্তু আমাদের প্রতিটি চাহিদা পূরণের চেষ্টা করেছেন। ছোটবেলায় হয়তো বুঝতে পারিনি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে উপলব্ধি করেছি একজন বাবার দায়িত্ব কতটা কঠিন। আজ আমি যে স্বপ্ন দেখি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি আমার বাবা। বাবা দিবসে আমি শুধু বলতে চাই—ভালো থাকুন বাবা, আপনার ত্যাগ কোনোদিন ভুলব না।’’
ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবীর বলেন, ‘‘আমার কাছে বাবা মানে নিরাপত্তা, সাহস আর অফুরন্ত ভালোবাসার আরেক নাম। জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে বাবার একটি কথাই আমাকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস দেয়। তিনি কখনো নিজের কষ্ট আমাদের বুঝতে দেননি। পরিবারের হাসিমুখ দেখার জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সেটা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি উপলব্ধি করছি। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।’’
ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম নাঈম বলেন, ‘‘বাবা এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের স্বপ্নগুলোকে সন্তানের স্বপ্নের সঙ্গে বদলে ফেলেন। হয়তো তিনি নতুন পোশাক কেনেন না, নিজের প্রয়োজনগুলো কমিয়ে দেন; কিন্তু সন্তানের পড়াশোনা কিংবা ভবিষ্যৎ গড়তে কখনো কার্পণ্য করেন না। আমার প্রতিটি অর্জনের পেছনে বাবার অদৃশ্য পরিশ্রম রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ সম্পর্কগুলোর একটি হলো বাবা-সন্তানের সম্পর্ক।’’
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল মালেক বলেন, ‘‘জীবনে সফল হওয়ার পথে অনেক মানুষ অনুপ্রেরণা হতে পারেন, কিন্তু প্রথম অনুপ্রেরণা সবসময় বাবা। আমার জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে তিনি পাশে থেকেছেন, ভুল করলে শাসন করেছেন, আবার ভেঙে পড়লে সাহসও দিয়েছেন। আজ আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখছি—এসবের পেছনে বাবার অগণিত ত্যাগ ও পরিশ্রম রয়েছে। আমি চাই, পৃথিবীর প্রতিটি সন্তান যেন অন্তত একটি দিন হলেও বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলতে পারে—বাবা, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’’
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, বাবা দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; বরং বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ উপলক্ষ। তারা বলেন, সন্তানের সুখের জন্য বাবারা নীরবে অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন, যা অনেক সময় চোখে পড়ে না। তাই শুধু বাবা দিবসেই নয়, বছরের প্রতিটি দিন বাবার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও যত্ন প্রকাশ করা উচিত।
তাদের ভাষায়, ‘‘বাবা কখনো সুপারহিরো হওয়ার দাবি করেন না, কিন্তু সন্তানের কাছে তিনিই জীবনের সবচেয়ে বড় নায়ক।’’
বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহারগুলোর নিঃসন্দেহে একটি। বাবা শাশ্বত, চির আপন। ভাষা ভেদে হয়তো শব্দ বদলায়, স্থান ভেদে বদলায় উচ্চারণও। কিন্তু বদলায় না রক্তের টান। বাবার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে। অবশ্য বাবার জন্য বিশেষ দিন হিসেবে প্রতি বছর ‘বিশ্ব বাবা দিবস’ পালিত হয়ে আসছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









