প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রবিবার (৯ আগস্ট) প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের মহেশখালীস্থ মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, নির্মাধীন গভীর সমুদ্র বন্দরসহ একাধিক মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে প্রকল্প এলাকা মাতারবাড়িতে সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এ উপলক্ষ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভেন্যুর প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম।
আগমন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন স্থানীয় সাংসদ আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ও মিডা কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।
পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা, ভেন্যুর অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় কার্যক্রম সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফর সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং সফর ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভিভিআইপি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকা জুড়ে কঠোর নজরদারিসহ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল সাড়ে দশটায় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টার যোগে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের টাউনশিপ এলাকায় হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা)র কার্যক্রম সরজমিনে পরিদর্শন করবেন।
মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আলহাজ্ব আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, ‘‘সরকারি সফরের অংশ হিসেবে মহেশখালীতে প্রথমবারের মতো আসছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শুধুমাত্র উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে আসছেন বিধায় এখানে দলের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক কোন জনসভার আয়োজন করা হচ্ছে না। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর সহ অন্যান্য মেগা প্রকল্প এবং মাতারবাড়ীর উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে। জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রকল্পের অগ্রগতি তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন ও পর্যালোচনা করবেন।”
প্রধানমন্ত্রী আগমণ নিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন কেবল একটি সফর নয়; এটি দ্বীপজেলা মহেশখালীকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্ব বহন করে। কারণ মহেশখালী একদিকে পর্যটন জোন, অন্যদিকে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল হাব হিসাবে দেশের অন্যতম ব্যস্ত নগরী হতে যাচ্ছে।’’
স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসাবে দেখছেন। স্থানীয়দের দাবি প্রধানমন্ত্রী উত্তর মহেশখালীতে একটি আলাদা উপজেলা হিসাবে ঘোষণা করবেন। এবং মহেশখালী- কক্সবাজার সেতুর বিষয়টি গভীর মনোযোগ দিয়ে জনস্বার্থে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেবেন।
এ ছাড়া স্থানীয় সাংসদ আরো বলেন, জনসাধারণের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি হচ্ছে, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দরসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে জমিদাতাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, এই অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান, কর্মহারাদের পুনর্বাসন, লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ ও মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবির বিষয়টি তুলে ধরা হবে।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সুলতান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে প্রশাসন, মহেশখালী থানা পুলিশ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সফরস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সফর নির্বিঘ্ন ও সফল করতে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
মাতারবাড়ী বর্তমানে দেশের অন্যতম কৌশলগত উন্নয়ন অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোসহ একাধিক বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এসব প্রকল্প দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে মহেশখালী ও মাতারবাড়ীসহ পুরো কক্সবাজার-২ আসনে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









