রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রিকশা ভাড়া নিয়ন্ত্রণে ফেসবুক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাকসুর যৌথ উদ্যোগে নতুন একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে, এই তালিকায় বিভিন্ন রুটে ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি প্রধান প্রবেশদ্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে রিকশা ভাড়ার এই নতুন তালিকা টানিয়ে দেয় প্রশাসন। একই সঙ্গে নির্ধারিত এই ভাড়া কার্যকর করতে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে মাইকিংও করা হয়েছে। এর আগে, গত ৪ জুলাই রিকশাচালক দের সাথে প্রক্টর দপ্তরে মতবিনিময় করে রাকসু নেতারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দূরবর্তী গন্তব্যের তুলনায় কাছাকাছি দূরত্বের ক্ষেত্রে নতুন তালিকায় অস্বাভাবিক বেশি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রিকশা ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। কিন্তু নতুন এই তালিকা শিক্ষার্থীদের সেই দাবির প্রতিফলন না ঘটিয়ে উল্টো যাতায়াত খরচের বোঝা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী কৌশিক কুন্ডু কাব্য থাকেন ক্যাম্পাস সংলগ্ন আমজাদের মোড় এলাকায়। প্রতিনিয়ত যাতায়াতের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। কাব্য বলেন, আগে আমজাদের মোড় থেকে তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনে আমরা দুজন রিকশায় আসলেও ২০ টাকা ভাড়া দিতাম। আর এখন বিনোদপুর গেট থেকেই ন্যূনতম ভাড়া ২০ টাকা দাবি করা হয়েছে। দূরত্ব অনুযায়ী এই ভাড়া বৃদ্ধি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
নাট্যকলা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সাদেক রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে অবগত নন। রাকসুর উচিত ছিল সব হল থেকে গণতান্ত্রিক উপায়ে শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া। এক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছে। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা জানতেই পারলাম না কখন, কোন উপায়ে ভাড়া বৃদ্ধি করা হলো এটি আসলেই হতাশাজনক।”
রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বির বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতামত এবং রিকশাচালকদের সাথে প্রত্যক্ষ আলোচনার ভিত্তিতে ভাড়া পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা চান, শিক্ষার্থীরা পূর্বের যৌক্তিক ভাড়াই পরিশোধ করুক কোনোভাবেই যেন এর চেয়ে কম বা বেশি ভাড়া নেওয়া না হয়।”
তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৩৬টি পয়েন্টে ভাড়া নির্ধারণ করা বেশ জটিল কাজ। যেসব পয়েন্টে ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, আমরা সেসব পয়েন্টের ভাড়া কমানোর জন্য পুনর্বিবেচনা করছি। খুব দ্রুতই নতুন একটি তালিকা দেওয়া হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









