সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শাহপরান আবাসিক হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে শনিবার দিবাগত রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসন তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন।
মারধরের শিকার খাইরুল খন্দকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাকে সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহদপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। তারা দুজনেই ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার জানান, গত শুক্রবার শাহপরান হলের ক্যান্টিনে পচা মাছ পরিবেশন করা হলে তিনি হলের ফেসবুক গ্রুপে হল প্রভোস্টকে মেনশন করে একটি অভিযোগমূলক পোস্ট দেন। এরপর অভিযুক্ত তারেক রহমান তাকে ডেকে বলেন, ওই পোস্টে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাকে প্রভোস্টের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেন।
পরবর্তীতে একই রাতে আবারও নিম্নমানের খাবার দেওয়া হলে খাইরুল পুনরায় অভিযোগ জানান। এর জের ধরে শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে খাইরুলকে পেয়ে হাসিবুর ও তারেক এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। খাইরুল তখন বলেন, "বিষয়টি নিয়ে কিছু বলার থাকলে হল প্রভোস্ট বলবেন।" এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাসিবুর তাকে বুকে লাথি মারেন এবং তারেক তার মাথার পেছনে ও মুখে একাধিকবার আঘাত করেন। পরে আশপাশের শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, হলের খাবার নিয়ে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে প্রভোস্ট কিছুটা অসন্তুষ্ট ছিলেন। বিষয়টি খাইরুলকে বোঝাতে গেলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
এ প্রসঙ্গে শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ বলেন, আমি কাউকে মারধরের নির্দেশ দিইনি এবং এ ধরনের কোনো ঘটনার প্রশ্রয়ও দিই না।
তিনি বলেন, হল-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ শিক্ষার্থীরা জানালে আলোচনা করেই সমাধানের চেষ্টা করা হয়। আমার কাছে সব শিক্ষার্থী সমান।
এদিকে শিক্ষার্থীকে মারধরের খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার গভীর রাতে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









