বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে আমরা পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। এই স্বাধীনতায় আবার ইন্ডিয়ার কাছে হারিয়েছিলাম। তারা আমাদের শোষণ করেছে, আপাদমস্তক আমাদের শাসন করেছে। ২৪-এর জুলাইয়ে আমরা সেই ইন্ডিয়ার শাসন থেকে মুক্ত হয়েছি।
রবিবার (১৯ জুলাই) ‘জুলাই ২০২৪: প্রথম ফ্যাসিস্টমুক্ত স্বাধীন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়’ দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশ তার নিজস্ব গতিতে চলবে, কারও দ্বারা হস্তক্ষেপ হবে না। আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “এই আন্দোলন দেশের জন্য হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য হয়েছে।”
এর আগে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ১১টায় কীর্তনখোলা হলে আলোচনা সভা শুরু হয়।অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই আলোচনা সভায় ববি ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে, রক্তাক্ত হয়ে, যার বিনিময়ে আমরা জুলাই পেয়েছি। আপনারা যেভাবে জুলাই দিবস, আলোচনা সবার আয়োজন করেছেন, আপনারা সেইভাবে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের বিচার নিশ্চিত করবেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, জুলাইয়ে সময়ে আমাদেরকে হল থেকে বের করে দেওয়া হলো, প্রশাসন থেকে বলা হলো তোমাদের কোনো দায়িত্ব নেওয়া হবে না। আমি বলতে চাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ফ্যাসিস্ট মুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিতি পেলেও মূলত এখন পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এখনো তারা তাদের কার্যক্রম চালি যাচ্ছে, এখনো তারা ছাত্রলীগের বিভিন্ন সাহায্য ও সহযোগিতা করছে।
ববি শিবিরের সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে দাবি করব, বিচার নিশ্চিত করুন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে আরও বলতে চাই আমাদের যে এই জুলাইয়ের ইতিহাস সেটা যেন আলাপ-আলোচনা পর্যন্ত না থাকে, জুলাইয়ে আমাদের ভাইকে নানাভাবে হলে, বাইরে, ভিতরে নির্যাতন করা হয়েছে এগুলোর বিচার আমরা এখন পর্যন্ত পাই নাই। তাদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবেন।
আলোচনা সভায় ববি প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান একক কোনো দল বা ব্যক্তির না। এই আন্দোলন ছিলো বাংলাদেশের সকল মুক্তিকামী জনতার। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিলো ফ্যাসিবাদির বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের লড়াই। এই গণঅভ্যুত্থান ছিলো ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদীর পক্ষে। বলতে চাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সকল মানুষের মুক্তির অভ্যুত্থান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









