জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছয় দিনব্যাপী একটি বাণিজ্যিক ক্যাম্পেইনের জন্য নির্ধারিত ৬০ হাজার টাকা ফি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নগদে গ্রহণ করা হলেও সেই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা পড়েনি। বরং ফজিলতুন্নেছা হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ঐশী সরকার একই ক্যাম্পেইনের ফি মওকুফ করিয়ে পুরো টাকা
আত্মসাৎ করেছেন এমন তথ্য উঠে এসেছে।
ক্যাম্পেইনের দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞাপনী সংস্থার মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, ৬০ হাজার টাকা তারা সরাসরি ঐশী সরকারের হাতে তুলে দিয়েছেন। তবে ঐশী সরকার এই দাবি অস্বীকার করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, লিখিত অভিযোগ পেলে অর্থ আদায় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা নেওয়া হবে।
ইস্পাহানি গ্রুপের পানীয় ব্র্যান্ড 'ইসপি' এর 'ইসপি জুস কার্ট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পেইন-২৬' পরিচালনার অনুমতির জন্য বিজ্ঞাপনী সংস্থা 'এঢাপ কমিউনিকেশনস' এর পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন ফজিলতুন্নেছা হল সংসদের ভিপি ঐশী সরকার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, অনুমতিপত্রটি স্বাক্ষরিত হয় গত ৮ জুলাই, অর্থাৎ ক্যাম্পেইন শুরুর অন্তত সাত কর্মদিবস আগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সাত কর্মদিবস আগে আবেদন করলে বাণিজ্যিক 'অ্যাকটিভেশন' এর জন্য দৈনিক ভেন্যু ফি নির্ধারিত ১০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে ছয় দিনের ক্যাম্পেইনটির জন্য মোট ফি দাঁড়ায় ৬০ হাজার টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের ক্যাম্পেইনের ফি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অগ্রণী ব্যাংকের ‘এলআর ফান্ড’-এ জমা দিতে হয়। কিন্তু সেই অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে সরাসরি ঐশী সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন ক্যাম্পেইনের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তিরা।
এঢাপ কমিউনিকেশনের প্রোমোটার এবং জাবি ক্যাম্পেইনের দায়িত্বে থাকা জান্নাত বলেন, 'আমরা ৬০ হাজার টাকা ওই আপুর (ঐশী) কাছে অ্যাডভান্স দিয়েছি।'ব্যাংকে জমা না দিয়ে কেন ব্যক্তির হাতে টাকা দেওয়া হলো তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমরা আপুর (ঐশী)কাছে টাকা জমা দিয়েছি। আমাদের যে ফি, সেটা তো দিতেই হবে। এখন সেই আপু কী করেছে, না করেছে, সেটা তো তার ব্যাপার।'
ক্যাম্পেইনের অনুমতির আবেদন করার পাশাপাশি পৃথকভাবে ফি মওকুফ চেয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের কাছে আবেদন করেন ঐশী সরকার।
রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, মূল অনুমতির আবেদনটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় চললেও ফি মওকুফের আবেদনটি ঐশী সরকার সরাসরি উপ-উপাচার্যের কাছে নিয়ে যান।
সূত্রটি জানায়, ক্যাম্পেইনের মূল অনুমতির আবেদনটি উপ-উপাচার্যের দপ্তরে যাওয়ার সময়ই ঐশী সরকার আলাদাভাবে ফি মওকুফের আবেদন নিয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এর কাছে যান। পরে সেই আবেদন অনুমোদন করা হয়।
ফি মওকুফের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্যাম্পেইনের অনুমোদনের সময় ক্ষেত্রবিশেষে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করা হয়। আবেদন কিংবা নানা পরিপ্রেক্ষিতে ফি আংশিক বা সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়। ঐশী আমাকে জানিয়েছিল যে, সে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে চাকরি করে এবং অনুমোদন ফি মওকুফ হলে তার ক্যারিয়ারের জন্য তা সহায়ক হবে। শিক্ষার্থীর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই মূলত ফি মওকুফের অনুমোদন দিয়েছিলাম।
তিনি আরও বলেন, 'যদি কোম্পানি আমাদের লিখিতভাবে জানায় যে তারা টাকা দিয়েছিল, তাহলে আমরা সেই টাকা আদায় করে প্রশাসনের কাছে জমা দেব।'
ক্যাম্পেইন এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে ঐশী সরকারকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে অন্য একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ' ক্যাম্পেইন ফি মওকুফের জন্য প্রশাসন আমার আবেদন গ্রহণ করেছে এবং আমাকে অনুমতি দিয়েছে।
তবে তার হাতে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে
বলেন, 'আমার মাধ্যমে কোনো টাকা লেনদেন হয়নি। আমি নিট অ্যান্ড ক্লিন। আমি যোগাযোগ করি এঢাপের ম্যানেজারের সঙ্গে।'


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









