ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে থাকা দুই নারী নির্মাতার একজন মে এল-তুখি।
পুরুষ পরিচালকদের ‘জিনিয়াস’ হিসেবে বন্দনা করার সংস্কৃতি নারী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের পিছিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডেনিশ-ইজিপশিয়ান পরিচালক মে এল-তুখি। এ বছর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার গোল্ডেন লায়নের প্রতিযোগিতায় থাকা মাত্র দুই নারী পরিচালকের একজন তিনি।
এল-তুখির নতুন চলচ্চিত্র ‘ওম্যান আননোন’ ভেনিসের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো এমন কোনো লেখা পড়িনি, যেখানে একজন নারী পরিচালককে জিনিয়াস বলা হয়েছে।’
নিজের প্রসঙ্গে অবশ্য তিনি বলেন, নিজেকে জিনিয়াস মনে করেন না। তবে এই প্রবণতা যে কতটা কাঠামোগত, সেটিই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তিনি বলেন, ‘এই আলোচনার ভাষা বদলানোর দায়িত্ব আমাদের সবার,’।

ভেনিসে নারী নির্মাতার সংকট
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের গল্প ‘ওম্যান আননোন’। জুলাইয়ে উৎসবের মূল প্রতিযোগিতার তালিকা প্রকাশের সময় একমাত্র নারী পরিচালকের ছবি ছিল। পরে গাজা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়। ছবিটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোর।
ভেনিসের এবারের আসরে গোল্ডেন লায়নের জন্য প্রতিযোগিতা করছেন ভের্নার হারৎসগ, পল শ্রেডার, নান্নি মোরেত্তি, মার্টিন ম্যাকডোনা ও ড্যানি বয়েলের মতো খ্যাতিমান পুরুষ নির্মাতারা। ‘মি টু’ আন্দোলনের পর চলচ্চিত্রে লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও পরিস্থিতি আবার আগের জায়গায় ফিরছে বলে মনে করেন এল-তুখি। কিনি বলেন, ‘এটি তার নিজের ক্যারিয়ারেও একটি বড় বাধা ছিল।’
চলচ্চিত্র স্কুল থেকে বের হওয়ার পর প্রথম ছবি নির্মাণের সুযোগ পেতে তার ছয় থেকে সাত বছর সময় লেগেছিল। অথচ তার পুরুষ সহপাঠীরা অনেক দ্রুত কাজ শুরু করতে পেরেছিলেন। কান ও বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে এ বছর নারী পরিচালকদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। কান উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় ২২টি ছবির মধ্যে পাঁচটি এবং বার্লিনে ১৭টির মধ্যে সাতটি ছবি পরিচালনা করেছেন নারী নির্মাতারা।

যুদ্ধ, নারী ও অদৃশ্যতা
‘ওম্যান আননোন’ ছবির পটভূমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের ডেনমার্ক। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মেরি, এক তরুণ গৃহপরিচারিকা। সে তার বিধবা মালিককে বিয়ে করতে যাচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধের সময় এক জার্মান সৈনিকের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা প্রকাশ পেলে কী হবে, সেই ভয় তাকে তাড়া করে। নারী ‘সহযোগীদের’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ-পরবর্তী গণহয়রানির ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ছবিটির ভাবনা পান এল-তুখি। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় নারীর শরীরকে প্রায়ই ‘জাতীয় ভূখণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এ সম্পর্কে এল-তুখি বলেন, ‘আমার সিনেমাটি নারীদের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার গল্প। একদিকে তাদের বস্তু হিসেবে দেখা হয়, অন্যদিকে তারা অদৃশ্য ও কণ্ঠহীন হয়ে থাকে’।
মে এল-তুখির ২০১৯ সালের চলচ্চিত্র ‘কুইন অব হার্টস’ নর্ডিক কাউন্সিল চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিল। তিনি ডগমা ২৫ আন্দোলনেরও অন্যতম উদ্যোক্তা—যা লাস ভন তারির ও টমাস ভিন্টারবার্গের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ডগমা ৯৫ আন্দোলনের আধুনিক পুনর্নির্মাণ। ভেনিসে নারী পরিচালকদের স্বল্প উপস্থিতি নিয়ে তৈরি সমালোচনার প্রসঙ্গে এল-তুখি রসিকতা করে বলেন— ‘এই মুহূর্তে সম্ভবত আমিই ভেনিস উৎসবের ‘সবচেয়ে পরিচিত অচেনা নারী’।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









