বিদেশে নিজের এক টাকাও বিনিয়োগের প্রমাণ কেউ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া লাইভে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘‘শুধু প্রমাণ করুন যে আসিফ মাহমুদ বিদেশে এক টাকাও বিনিয়োগ করেছেন বা দেশের বাইরে সামান্য এক চিমটি ধুলাও কিনেছেন। বিদেশে কোথাও এক টাকাও পাওয়া গেলে সেদিনই আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো।’’
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সর্বশেষ অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, এসব অভিযোগের মাধ্যমে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ অভিযোগে দুবাইয়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে আসিফ বলেন, এসব অঙ্ক ‘আজকের কণ্ঠ’ নামের একটি ফেসবুক পেজের ১১ ফেব্রুয়ারির পোস্টে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়। তিনি পেজটিকে আওয়ামী লীগের ‘প্রচারপেজ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা জানি না আজকের কণ্ঠ দুদক চালায়, নাকি দুদক আজকের কণ্ঠ চালায়। বিষয়টি খুবই বিভ্রান্তিকর।’’
একটি মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বাড়ানোর অভিযোগও নাকচ করেন আসিফ। তিনি জানান, শুরুতে প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৫০টি স্টেডিয়াম রাখার পরিকল্পনা ছিল। পরে এটি প্রায় সব উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণের পাশাপাশি প্যাভিলিয়ন, দর্শকদের বসার ব্যবস্থা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে।
তার দাবি, সংশোধিত প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একনেকে অনুমোদিত হয় এবং বর্তমানে এটি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
আসিফ বলেন, ‘‘আপনারা যদি মনে করেন এতে দুর্নীতি হয়েছে, তাহলে কাজ বন্ধ করে দিন।’’
সরকারের দায়িত্বে থাকার সময় তার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা অসন্তুষ্ট ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, সেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই বর্তমান তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তিনি ওই নেতাদের নাম প্রকাশ করেননি এবং এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণও দেননি।
দুদকের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের একটি অংশের সমালোচনা করেন আসিফ। তিনি বলেন, ‘‘এই মিডিয়া ট্রায়ালের কারণে আমি ভুক্তভোগী হয়েছি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘হয়তো কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছর পর দুদকের তদন্তে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব। কিন্তু ততদিনে যে ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে যাবে।’’
এ সময় তার দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। আসিফ জানান, তার মাত্র একজন বোনজামাই রয়েছেন এবং তার ভাগ্নের বয়স প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর।
তিনি বলেন, ‘‘আপনারা অর্থ পাচারের অভিযোগে এমনকি একটি শিশুকেও টেনে আনছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’’
সবশেষে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অভিযোগের পাশাপাশি তার বক্তব্যও বিবেচনার আহ্বান জানান এনসিপির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘‘দয়া করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচার করুন। শুধু ক্লিকবেইট শিরোনামের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









