মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনিরের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতসহ ৬ দফা দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে মনিরের সহপাঠী ও রংপুর ডিভিশনাল অ্যাসোসিয়েশনের (আরডিএ) উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন ৩-এর সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর কার্যালয়ে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ৬ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা ছয়টি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মেস মালিক ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে ফৌজদারি মামলা দায়ের, নিহত মনিরুজ্জামান মনিরের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, ২৪ ঘণ্টা কার্যকর ‘ওয়ান কল সার্ভিস’ চালু ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, ২৩ জুলাইয়ের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, খাজা মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা, ক্যাম্পাস-সংলগ্ন সব মেসের অবকাঠামোগত ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা যাচাইয়ে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং অনিরাপদ মেসে শিক্ষার্থীদের বসবাস নিষিদ্ধ করা। পাশাপাশি ক্যাম্পাস-সংলগ্ন হোটেল ও খাবারের দোকানগুলোর খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনারও দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
একই দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন খাজা ছাত্রাবাস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে খাজা ছাত্রাবাসের মালিককে প্রক্টর কার্যালয়ে ডেকে আলোচনা করা হয়। এ সময় নিহত মনিরের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে মেস মালিকের সঙ্গে কথা হয়। মেস মালিক বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য দুই দিন সময় চান। আগামী সোমবার (২৭ জুলাই) প্রক্টর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে ক্ষতিপূরণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হবে।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, মাভাবিপ্রবি শাখা। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দাবিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় ছাত্রশক্তি, মাভাবিপ্রবি শাখাও পৃথকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানায়।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই রাত প্রায় ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন খাজা ছাত্রাবাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনির তৃতীয় তলা থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মনিরের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায়।
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, মনিরের মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতসহ উত্থাপিত দাবিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









