জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হলের গণরুমগুলোর অবস্থা অনেক ক্ষেত্রে জেলখানার চেয়েও করুণ ও অবাসযোগ্য। ছাত্রদের অধিকার কেড়ে নিয়ে সেখানে এক ধরনের অমানবিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) রিমেম্বারিং জুলাই- শীর্ষক সাংস্কৃতিক ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাইয়ের স্মৃতিকে ধরে রাখতে ও জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে রিমেম্বারিং জুলাই-শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
আলোচনা সভায় আখতার হোসেন বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যেন সেখানে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও মুক্ত জ্ঞানের চর্চা হয়—ক্ষমতার চর্চা নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্য যে, আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক গণরুমগুলোর অবস্থা অনেক ক্ষেত্রে জেলখানার চেয়েও করুণ ও অবাসযোগ্য হয়ে উঠেছিল। ছাত্রদের অধিকার কেড়ে নিয়ে সেখানে এক ধরনের অমানবিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। তবে জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্বাস করে—এখন যদি আবারও কেউ হলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখলদারিত্বের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই সবার আগে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।”
নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হলো এমন এক জায়গা যেখানে দেশের নানা প্রান্তের, নানা সংস্কৃতির মানুষের মেলবন্ধন ঘটে। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় একটি প্রাপ্তি। তাই কোনো ধরনের বিভেদ তৈরি না করে আমরা যদি সব শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য একটি ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে পারি, তবেই আমাদের দায়িত্ব সার্থক হবে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আসি, পড়াশোনা শেষ করার বাইরেও আমাদের একটি বড় সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গতিপথ নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। নিজের ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশের কথা ভাবতে হবে—কারণ শুধু একা ভালো থাকা যায় না, আমাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমষ্টিগতভাবে ভালো থাকতে হবে।”
কর্মকমিশনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজকের তরুণদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো কর্মসংস্থান। চাকরি বা কর্মসংস্থান যদি যোগ্যতার বদলে রাজনৈতিক সুপারিশ ও স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে হয়, তবে হাজারো মেধা ও স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটবে, পিছিয়ে পড়বে লাখো শিক্ষার্থী। তাই এই প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কোনোভাবেই দলীয়করণের দিকে না চলে যায়। একই সাথে, সরকারি কর্ম কমিশন-কে কোনো অবস্থাতেই রাজনৈতিক দলীয়করণের হাতিয়ার বানাতে দেওয়া যাবে না। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অসচ্ছতা বা আনফেয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে পুরো দেশ এক গভীর সংকটে পড়বে—এটি রোধ করা আমাদের সবার দাবি।”
সাজিদ হত্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই ক্যাম্পাসেরই মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ, একাধারে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই শিক্ষার্থীর রহস্যজনক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা আমরা ডকুমেন্টারিতে দেখেছি। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য—এখনো তার হত্যার সঠিক বিচার বা রহস্য উদঘাটিত হয়নি। আমরা প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—যেভাবেই হোক সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে হবে এবং এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমাদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরও একটি বড় দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো—জনগণ গণভোটে অংশ নিয়ে রায় দেওয়ার পরও সেই গণভোটকে কার্যকর করা হয়নি। আমরা অনতিবিলম্বে জনগণের সেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাই। সর্বোপরি, অতীতের সমস্ত অন্যায়, দখলদারিত্ব ও লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি পেছনে ফেলে বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে একটি ইতিবাচক ও গুণগত পরিবর্তন আসবে—আজকের দিনে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ড. মাহমুদা মিতু, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ আহসানসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারির নেতৃবৃন্দ।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









