কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পৌরসভার রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এম এ উল্লাস নামে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমারখালী পৌরসভার কুণ্ডুপাড়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় মারাত্মক জখম হওয়া ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী পৌরসভার কুণ্ডুপাড়া এলাকায় একটি সরকারি রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের ইট ও সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ইতিপূর্বে ওই সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে শনিবার দুপুরে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ঠিকাদারের লোকজন পুনরায় কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজটি আবারও বন্ধ করে দেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা আখতার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউএনও স্থান ত্যাগ করার পরপরই সেখানে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করছিলেন বাংলা টিভির কুমারখালী উপজেলা প্রতিনিধি এম এ উল্লাস। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তার ওপর চড়াও হয় এবং অতর্কিতভাকে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে।
অভিযোগ ওঠে কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে।
তবে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্যের ছেলে শোভন বলেন, ‘‘আমি আজ বাড়ি থেকেই বের হইনি। সাংবাদিকের ওপর হামলার কথা আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। তা ছাড়া সাংবাদিক উল্লাস সম্পর্কে আমার দূর সম্পর্কের চাচা হন।’’
ঘটনার বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আখতার বলেন, ‘‘অনিয়মের অভিযোগে ইতিপূর্বে ওই রাস্তার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। তারা কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই আজ আবারও কাজ শুরু করলে আমি নিজে গিয়ে বন্ধ করে দিই। তবে আমি ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পরই একজন সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটি শুনেছি।’’
সাংবাদিক উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘‘পৌরসভার কুণ্ডুপাড়ায় রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে কাজ বন্ধ রেখেছিল প্রশাসন। কিন্তু আজ আবারও ঠিকাদারের শ্রমিকরা কাজ শুরু করলে ইউএনও মহোদয় গিয়ে তা বন্ধ করে দেন। তিনি চলে যাওয়ার পর ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।’’
হামলার ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









